রেলের খাবারে শুধু ‘হালাল’ কেন?-শিখদের আপত্তিতে নড়েচড়ে বসল মানবাধিকার কমিশন, বিপাকে রেলওয়ে বোর্ড!

ভারতীয় রেলের ক্যাটারিং পরিষেবা এবং আমিষ খাবারের মেনু নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার আইনি ও জাতীয় স্তরে পৌঁছে গেল। ট্রেনের থালিতে দেওয়া মাংস কেন শুধুমাত্র ‘হালাল’ শংসাপত্রপ্রাপ্ত হবে, সেই প্রশ্ন তুলে শিখ সংগঠনগুলি সরব হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই প্রেক্ষিতে রেলওয়ে বোর্ড, FSSAI এবং সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিবকে নোটিশ জারি করেছে কমিশন।

অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ: NHRC-র স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, রেলওয়েতে শুধুমাত্র হালাল মাংস পরিবেশন করা গ্রাহকদের খাবার পছন্দের অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হতে পারে। কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগো জানান, “শিখ রহত মর্যাদা অনুযায়ী শিখদের জন্য হালাল মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ। যদি গ্রাহককে না জানিয়েই এই মাংস পরিবেশন করা হয়, তবে তা সরাসরি নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন।”

স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশ: কমিশন সংস্কৃতি মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে যে, সমস্ত খাবারের স্টল এবং প্রতিষ্ঠানে পরিবেশিত মাংস ‘হালাল’ নাকি ‘ঝটকা’, তা স্পষ্টভাবে লিখে রাখতে হবে। একইভাবে FSSAI-কেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমিষ খাবারের সার্টিফিকেশনে মাংসের ধরন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে ভোক্তারা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক উদাহরণ: প্রিয়াঙ্ক কানুনগো এই বিতর্কে কর্মসংস্থানের দিকটিও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র হালাল মাংসের ওপর জোর দিলে হিন্দু দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা ঐতিহ্যগতভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা কর্মসংস্থানের সুযোগ হারাচ্ছেন। তিনি আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে বলেন, “মুসলিম দেশের বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারলাইন্সও যদি যাত্রীদের হালাল এবং ঝটকা—উভয় বিকল্প দিতে পারে, তবে ভারতীয় রেলে কেন নয়?”

এখন দেখার, মানবাধিকার কমিশনের এই কড়া বার্তার পর রেলওয়ে বোর্ড তাদের মেনু এবং ক্যাটারিং নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনে কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy