রাজ্যের রাজনীতির করিডোরে এখন সবথেকে আলোচিত বিষয় সিআইডি-র এই অভূতপূর্ব তল্লাশি অভিযান। মঙ্গলবার, ৯ জুন, কালীঘাটের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর ঠিকানায় একযোগে হানা দিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারী সংস্থার মূল লক্ষ্য—তৃণমূল কংগ্রেসের সেই বিতর্কিত ‘অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক’। কেন এই খাতা উদ্ধার করা এত জরুরি? কারণ, এই রেজোলিউশন বুকই তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণের গোপন দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৯ মে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে জানান, দলের বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। এই চিঠির পর বিধানসভার সচিবালয় থেকে জানতে চাওয়া হয়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিধায়কীয় রেজোলিউশন আছে কি না। উত্তর দিতে গিয়ে ২০ মে অভিষেক ফের একটি চিঠি পাঠান এবং তাতে ৬ মে অনুষ্ঠিত একটি রেজোলিউশন কপির উল্লেখ করেন। সেখানে দাবি করা হয়, ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ওই বৈঠকে বিধায়করা সই করেছেন।
কিন্তু এখানেই গল্পের মোড় ঘোরে। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, ৬ মে তেমন কোনো রেজোলিউশনই হয়নি। উল্টে বিধায়কদের অভিযোগ, ১৯ মে-র বৈঠকে কিছু বিধায়কের সই জালিয়াতি করা হয়েছে। বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায়ের মতো বিধায়করা সিআইডি-র কাছে স্বীকার করেছেন, ওই সই তাঁদের নয়। সব মিলিয়ে ১৪ জন বিধায়কের সই নিয়ে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের তদন্তে নেমে সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনবার হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠায়। কিন্তু অভিষেক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এবং পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। অভিষেক সিআইডি-কে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অরিজিনাল রেজোলিউশন বুক তাঁর কাছে নেই। এই প্রেক্ষাপটেই তদন্তের স্বার্থে সিআইডি মঙ্গলবার সরাসরি ওই দুই ঠিকানায় তল্লাশি চালায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তল্লাশি প্রমাণ করে যে সিআইডি অরিজিনাল রেজোলিউশন বুকটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত থামতে নারাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই ও সিআইডি-র এই অভিযান—দুইয়ের দ্বন্দ্বে এখন রাজ্য রাজনীতি এক চরম উৎকণ্ঠার মুখে দাঁড়িয়ে।





