ভারতের অর্থনীতির জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর সামনে এল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক ‘পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা (PLFS) ২০২৫’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কর্মসংস্থান। এই রিপোর্টে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়টি হলো কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। বর্তমানে দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশই মহিলা, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
বেকারত্ব হ্রাসের খতিয়ান: ২০২৫ সালের এই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, লিঙ্গ নির্বিশেষে এবং সমস্ত শিল্পক্ষেত্রেই বেকারত্বের হার আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরাঞ্চল এবং গ্রামীণ এলাকা—উভয় জায়গাতেই কাজের সুযোগ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দাবি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল ইকোনমি এবং স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়ার মতো প্রকল্পগুলি এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
মহিলা শ্রমশক্তির উত্থান: গত কয়েক বছরে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণের হার বা ‘ফিমেল লেবার ফোর্স পার্টিসিপেশন রেট’ (FLFPR) দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে ভারতের কর্মশক্তির ৪০ শতাংশ জুড়ে রয়েছেন মহিলারা। মূলত তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষেত্র, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় মহিলাদের যোগদান সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সরকারি মতে, নারী স্বনির্ভরতা ও শিক্ষার প্রসারের ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষিত বেকারত্বে রাশ: সমীক্ষায় আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, কেবল অদক্ষ শ্রমিক নয়, বরং শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও বেকারত্বের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কারিগরি শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর জোর দেওয়ার ফলে শিল্পক্ষেত্রে তাদের চাহিদা বেড়েছে। শিল্প ও পরিষেবা খাতের এই অগ্রগতি ভারতীয় অর্থনীতির ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে এক বড় ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের এই রিপোর্ট বিরোধী শিবিরের ‘বেকারত্ব’ সংক্রান্ত সমালোচনার পাল্টা জবাব হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।