তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী মেগাস্টার তথা ‘তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (TVK) প্রধান বিজয় থলপতি আজ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। রূপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা বিজয়ের এই জয়কে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা রাজনৈতিক উত্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করে বিজয়ের দল। তবে এই পথ এককভাবে চলা সম্ভব ছিল না। কংগ্রেস, সিপিআইএম (CPIM), সিপিআই (CPI), ভিসিকে (VCK) এবং আইইউএমএল (IUML)-এর মতো শক্তিশালী দলগুলোর সাথে জোট বেঁধে মেগা মোর্চা গঠন করেছিলেন থলপতি। আর সেই জোটের ভরসাতেই অবশেষে চেন্নাইয়ের সিংহাসন দখল করলেন তিনি।
চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম আজ ছিল তারার মেলায় রঙিন। সেখানেই আয়োজিত হয় এই গ্র্যান্ড শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বিজয়ের অনুরোধে এবং জোটের সংহতি বজায় রাখতে উপস্থিত হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলের উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে এই জোটের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নয়, বিনোদন জগত থেকেও ছিল চাঁদের হাট। বিশেষ করে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন। বিজয়ের দীর্ঘদিনের সহ-অভিনেত্রীর উপস্থিতি সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করে।
শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘থলপতি’ বা সেনাপতি হিসেবে নয়, তিনি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য—রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আনা। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে তখন লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের ‘থলপতি’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এমজিআর এবং জয়ললিতার পর বিজয়ের এই উত্থান এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, রুপোলি পর্দার নায়ক বাস্তবের শাসন ব্যবস্থায় কতটা সফল হন।





