রিল বানালেই আপত্তি! স্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির বলি যুবক, মর্মান্তিক পরিণতি উত্তরপ্রদেশে

স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে রিল তৈরির নেশা মানুষের জীবনে কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি মর্মান্তিক নজির তৈরি হলো উত্তরপ্রদেশের বুদাউন জেলায়। স্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম রিল এবং নাচের ভিডিও পোস্ট করা নিয়ে পারিবারিক অশান্তির জেরে এক যুবক নিজের প্রাণ দিলেন। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করা ওই যুবকের নাম সোহান সিং যাদব (২৮)। এই ঘটনাটি ইসলামনগর থানা এলাকার গাজরামপুর গ্রামের মানুষকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

মৃতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২ জুন সোহানের সঙ্গে আলিগড় জেলার হরনৌতাপুর গ্রামের বাসিন্দা গুঞ্জনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সংসারে এসে গুঞ্জন ইনস্টাগ্রামে রিল তৈরির প্রতি তীব্র আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি নিয়মিত নাচ ও বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেন। পরিবারের দাবি, গুঞ্জনের এই শখ সোহানের একদমই পছন্দ ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ত্রীর এভাবে ভিডিও পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই তাঁদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য ও ঝগড়া চলত। সোহান বারবার তাঁকে এই ধরনের ভিডিও পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু গুঞ্জন তাতে কর্ণপাত করেননি।

সোহানের পারিবারিক সূত্রে খবর, রিল ভিডিও তৈরির এই বিবাদকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। নিত্যদিনের অশান্তির জেরে ঘটনার চার দিন আগেই গুঞ্জন বাপের বাড়ি চলে যান। রবিবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে সোহানের ফোনে কথা হয়। পরিবার দাবি করেছে, সেই রাতেও ভিডিও পোস্ট করা বা রিল বানানো নিয়ে দুজনের মধ্যে মারাত্মক তর্কাতর্কি হয়। স্ত্রীর সঙ্গে ওই উত্তপ্ত বাদানুবাদের পরেই সোহান চরম অবসাদে ভুগতে শুরু করেন এবং আত্মহননের পথ বেছে নেন।

সোমবার সকালে পরিবারের লোকজন তাঁকে ঘরে দেখতে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। এরপরই ঘরের ভেতর তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইসলামনগর থানার পুলিশ। চার ভাইয়ের মধ্যে সোহান ছিলেন দ্বিতীয়। পেশায় কৃষক এই যুবক সংসার চালানোর যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় তাঁর এহেন মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিলসি সার্কেল অফিসার (সিও) কে কে তিওয়ারি জানিয়েছেন, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি যে কীভাবে একটি সুখী দাম্পত্য ও একটি প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনাটি তারই চরম সতর্কবার্তা।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty