ইসরায়েলি রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা! মার্কিন ভিসা না পেয়ে সফর বাতিল বেন গভিরের

ইসরায়েলের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চরম অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে গেল। কট্টর ডানপন্থী নেতা ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন গভিরকে ভিসা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানাল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর যে মায়ামি সফর ছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর তথ্যমতে, গত সোমবার বেন গভির তার আসন্ন মার্কিন সফরের ভিসার জন্য তেল আবিবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বিশেষ কূটনৈতিক সুবিধা ও ভিসা প্রদান করে থাকে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তলব পাওয়ার পর গভিরকে জানানো হয় যে, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক ফৌজদারি মামলা থাকায় তাঁকে সশরীরে দূতাবাসে উপস্থিত হতে হবে এবং বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো উচ্চপদস্থ একজন ব্যক্তিকে এইভাবে দূতাবাসে ডেকে বায়োমেট্রিক তথ্য চাওয়ার ঘটনাকে ইসরায়েলি গণমাধ্যম অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অপমানজনক হিসেবে বর্ণনা করছে। ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের এমন কঠোর আচরণের নজির অতীতে নেই। কিন্তু বেন গভির দূতাবাসে সশরীরে হাজির হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই অনড় অবস্থানের কারণে মার্কিন দূতাবাস তাঁকে ভিসা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপরই তিনি তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত মায়ামি সফর বাতিল করতে বাধ্য হন।

বেন গভির ইসরায়েলি রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরেই একজন অত্যন্ত বিতর্কিত চরিত্র। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এবং জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন এবং ইসরায়েলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ইরান পরমাণু চুক্তি এবং লেবানন ইস্যুতেও তিনি আমেরিকার অবস্থানকে তোয়াক্কা না করে একাধিকবার কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনো মার্কিন চুক্তিতে ইসরায়েল আবদ্ধ থাকতে বাধ্য নয় এবং প্রয়োজনে লেবানন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবেন না।

২০২২ সালে প্রথম নেসেটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদ লাভ করেন ৫০ বছর বয়সী এই নেতা। তাঁর ডানপন্থী উগ্রবাদী মনোভাবের কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি যথেষ্ট সমালোচিত। তবে মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইসরায়েল-আমেরিকা বন্ধুত্বের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের এক নতুন টানাপোড়েনকে প্রকাশ্যে নিয়ে এল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty