রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ‘বনতারা’ পেল ক্লিন চিট! হাতি স্থানান্তরে আপত্তি নেই সুপ্রিম কোর্টের

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পশু উদ্ধার, যত্ন এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘বনতারা’-কে বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, তাদের গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বনতারাকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বনতারা প্রকল্পে হাতি স্থানান্তরের ওপর আর কোনো বাধা থাকল না।
একটি জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে বনতারাতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে হাতি স্থানান্তর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন বিচারপতি জাস্তি চেলমেশ্বরের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটির দায়িত্ব ছিল হাতিগুলির আইনসম্মত অধিগ্রহণ, তাদের কল্যাণ এবং বনতারা প্রকল্পের আর্থিক স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখা। পাশাপাশি, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইন ও আন্তর্জাতিক মান মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তাও নিশ্চিত করার কথা ছিল।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে এবং তাতে বনতারার আইনগত ও নীতিগত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “যদি নিয়ম মেনে হাতিগুলি স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।”
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং অনন্ত আম্বানির পক্ষে আইনজীবী হরিশ সালভে বলেন, “আন্তর্জাতিক কিছু দেশ যারা নিজ দেশে শিকারকে বৈধতা দিয়েছে, তারা ভারতের এই উদ্যোগকে অযথা সমালোচনা করছে।” তিনি আরও জানান, তদন্তে বনতারার কর্মীরা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। তবে তিনি আবেদন করেন যে, রিপোর্টে কিছু গোপন তথ্য রয়েছে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত নয়। আদালতও জানায়, তারা এখনও রিপোর্টটি খোলেনি এবং যথাসময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই রায়ের ফলে বনতারার কার্যক্রম আরও গতি পাবে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।