রিলসের নেশায় কি বুদ্ধি কমছে আপনার শিশুর? ইউটিউব সহ-প্রতিষ্ঠাতার সতর্কবার্তায় তোলপাড় দুনিয়া

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুড়ো আঙুলের এক ঘষায় বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। কখনও নাচ, কখনও গান, আবার কখনও নিছক মজা— ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের এই ছোট ভিডিয়ো বা ‘রিলস’ এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই রঙিন জগতের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক গভীর অন্ধকার। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ছোট ভিডিয়োর এই নেশা শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জাপানে ৭ হাজারেরও বেশি শিশুর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১ বছরের কম বয়সি শিশুরা যদি দিনে ১ থেকে ৪ ঘণ্টা মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকে, তবে তাদের কথা শিখতে এবং বুদ্ধির বিকাশে দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে। ইউটিউবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ চেন এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ‘ব্লিঙ্ক-অ্যান্ড-গো’ ফরম্যাট শিশুদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা অ্যাটেনশন স্প্যান কমিয়ে দিচ্ছে।

যখন মস্তিষ্ক প্রতি ২০ সেকেন্ডে নতুন বিষয়বস্তু দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন দীর্ঘ সময় ধরে বই পড়া বা দরকারি তথ্যবহুল কিছু দেখা শিশুদের কাছে একঘেয়ে হয়ে ওঠে। দ্রুত আনন্দের খোঁজে মস্তিষ্ক ‘ডোপামিন’ নামক হরমোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা তাদের মধ্যে অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি এর ফলে কিশোর-কিশোরীরা অলস হয়ে পড়ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

বর্তমানে খুদে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের সংখ্যা বাড়লেও, সঠিক গাইডেন্সের অভাবে তারা সাইবার অপরাধ বা গভীর অবসাদের শিকার হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিনোদনের জন্য রিলস ঠিক আছে, কিন্তু শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য মোবাইলের পর্দায় কাটানো সময়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বয়সের সীমাবদ্ধতা এখনই নিশ্চিত করা জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy