রশিদে সই আছে, তেল নেই! দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট সমবায়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কালোবাজারির অভিযোগ

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই চরম উত্তেজনা দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপে। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটির তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার লিটার কেরোসিন তেল কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি।

ঘটনাটি ঠিক কী?
অভিযোগ, গত জানুয়ারি মাস থেকে স্টিল টাউনশিপের ১০টি ডিপোতে কেরোসিন সরবরাহ বন্ধ। অথচ অন্ডালের কাজোড়ার একটি সংস্থা থেকে দু’দফায় প্রায় ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন তেলের রশিদ ইস্যু করা হয়েছে। তেলের স্লিপ ইস্যু হওয়ার অর্থ হলো তেল তোলা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ডিপোগুলোতে এক ফোঁটা তেলও পৌঁছায়নি। এই রশিদে বিভাগের ডিরেক্টর শঙ্কর সরকারের পাশাপাশি সন্তোষ বারুই ও অবিনাশ রায় নামে দুই ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা সমবায়ের বৈধ প্রতিনিধিই নন বলে দাবি বিরোধীদের। অভিযোগ, এই তেল চুপিচুপি তুলে নিয়ে চড়া দামে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এই ঘটনায় সরাসরি সিইও-র কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সিটু নেতা ললিত মিশ্রের অভিযোগ, গায়ের জোরে বোর্ড দখল করে তৃণমূল এই দুর্নীতি চালাচ্ছে। যদিও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে ডিরেক্টর শঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে ধাপে ধাপে তেল দেওয়ার জন্যই রশিদ ইস্যু করা হয়েছিল। তবে বোর্ডের সম্পাদক নন্দকিশোর ঘোষ বৈরাগ্য নিজেই স্বীকার করেছেন, তেল তোলা হলেও তা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছায়নি এবং এর জন্য শোকজ করা হয়েছে ডিরেক্টরকে। তদন্তে আসল সত্যিটা কী বেরোয়, সেদিকেই তাকিয়ে শ্রমিক মহল।