রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে সাফ হচ্ছে জঙ্গল! পরিবেশ বাঁচাতে আদালতের এই নির্দেশ কাঁপিয়ে দিল প্রশাসনকে

মধ্যপ্রদেশে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও নতুন মহাসড়ক নির্মাণের নামে নির্বিচারে সবুজ গাছ কাটার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক অত্যন্ত অনন্য, দৃষ্টান্তমূলক ও ইতিবাচক রায় প্রদান করেছে। রাজ্যের হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিবেক রুশিয়া এবং বিচারপতি প্রদীপ মিত্তালের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছে। আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি আদালত আবেদনকারীদের নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা যেন নিজ নিজ এলাকায় পৌরসভা কর্তৃক নির্দিষ্ট স্থানে প্রত্যেকে অন্তত ২৫টি করে ফলদ গাছ রোপণ করেন এবং সেই মর্মে আদালতে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন জমা দেন। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থার এক অভিনব রূপ হিসেবে এই রায় ইতিমধ্যেই আইনি মহলে ব্যাপক প্রশংস কুড়িয়েছে।

মূল মামলার পটভূমি অনুযায়ী, রাজ্যে উন্নয়নের নামে যেভাবে পাইকারি হারে গাছ কাটা হচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে আনন্দ কুমার শর্মা ও বিবেক কুমার শর্মা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ ছিল যে, যে অনুপাতে প্রাচীন ও সবুজ গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন চারা রোপণ বা সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে ভারসাম্য। এছাড়া, ২০১৫ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের জারি করা একটি বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যা পরিবেশের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে দাবি করা হয়েছিল। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ইতোমধ্যে সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে দিয়েছে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, ২০১৯ সালে এই মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে রাজ্যে বহু নতুন মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে এবং রাস্তা চওড়া করার কাজ হয়েছে। তবে বিগত বছরগুলিতে ঠিক কত সংখ্যক গাছ কাটা হয়েছে এবং তার বিপরীতে আদতে কটি নতুন চারা লাগানো হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে আদালতের কাছে নেই। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আবেদনকারীরা যদি এই বিষয়ে আরও আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান, তবে তাঁদের নিখুঁত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে যথাযথভাবে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।

সবমিলিয়ে, পরিবেশ রক্ষার তাগিদে আদালতের এই রায় দেশের বিচারব্যবষ্টায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু আইনি মারপ্যাঁচে মামলাটি খারিজ না করে, আবেদনকারীদের নিজ দায়িত্বে গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়ে আদালত এক সুদূরপ্রসারী ও পরিবেশবান্ধব বার্তা দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের এই সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।