অফিস যাওয়ার পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকার দিন এবার শেষ হতে চলেছে। একসময়ের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি এখন বাস্তবের দরজায়। মার্কিন সংস্থা জবি এভিয়েশন (Joby Aviation) তাদের ইলেকট্রিক এয়ার ট্যাক্সির প্রোডাকশন ও টেস্টিং পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে। অর্থাৎ, খুব শীঘ্রই রাস্তার ভিড় এড়িয়ে নীল আকাশ চিরে আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন এয়ারপোর্ট বা রেলস্টেশনে।
উড়ন্ত ট্যাক্সির ক্ষমতা কত? জবি এভিয়েশন গত কয়েক বছর ধরে এই বিশেষ ধরনের এয়ারক্রাফ্টের ওপর কাজ করছে। এটি মূলত একটি ইলেকট্রিক ভার্টিকাল টেক-অফ এবং ল্যান্ডিং (eVTOL) যান। অর্থাৎ, এটি হেলিকপ্টারের মতো সোজাসুজি মাটি থেকে আকাশে উড়তে পারে এবং নামতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০ মাইল। এক চার্জে এটি অনায়াসে ১০০ মাইল পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০,০০০ মাইল ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এই ট্যাক্সি।
উবারের সঙ্গে হাতবদল: সবচেয়ে বড় চমক হলো, বিশ্বখ্যাত ক্যাব সংস্থা উবার (Uber)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে জবি এভিয়েশন। এর ফলে সাধারণ ট্যাক্সি বুক করার মতোই স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে আপনি এই এয়ার ট্যাক্সি বুক করতে পারবেন। জ্যামে আটকা পড়ার ভয় থাকবে না, আর সময় বাঁচবে অভাবনীয়ভাবে।
কবে মিলবে এই পরিষেবা? সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার প্ল্যান্টে বর্তমানে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। সব ঠিক থাকলে এই বছরের শেষেই দুবাইতে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়ে যাবে এই এয়ার ট্যাক্সি। দুবাই শহরে ইতিমধ্যেই দুটি বিশেষ ল্যান্ডিং সাইট বা ‘ভার্টিপোর্ট’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আমেরিকার পর ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও এই পরিষেবা আনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
নিরাপত্তার খাতিরে এই যানে রাখা হয়েছে মাল্টিপল ব্যাকআপ সিস্টেম। ওড়ার সময় এটি অত্যন্ত নিঃশব্দ, ফলে শহরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না।