“রাস্তায় হাঁটু জল, পর্যাপ্ত আলো নেই! সাপের কামড়ে ছাত্রীর মৃত্যু, স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতৃত্ব

বৃষ্টির জল জমার কারণে ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো রাজ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলাতে বাড়ির সামনে রাস্তায় জমা জলে সাপের কামড়ে মৃত্যু হলো দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিকাশি ব্যবস্থার চরম বেহাল দশা এবং রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান জলেই লুকিয়ে ছিল বিষধর সাপ, যার কামড়ে মৃত্যু হলো ১৫ বছরের নাবালিকার।

১৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর শেষ রক্ষা হলো না
ঘটনাটি ঘটে মহেশতলার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর মধ্যম মোল্লাপাড়ায়। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন, অর্থাৎ গত রাত দশটা নাগাদ, ওই এলাকার বাসিন্দা ১৫ বছরের নাবালিকা দশম শ্রেণির ছাত্রীটি বাড়ির সামনে রাস্তার জমা জলে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় বসিয়ে দেয়।

পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর অবশেষে দ্বাদশীর দিন (শুক্রবার) নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। ময়না তদন্তের পর রাতে ছাত্রীর দেহ মহেশতলার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা
ছাত্রীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য স্থানীয় প্রায় ৬০টি পরিবার সরাসরি নিকাশি নালা ও রাস্তার বেহাল দশাকে দায়ী করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ:

রাস্তায় হাঁটু সমান জল দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকে।

এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই।

কিছু দিন আগেই রাস্তার জমা জলে হেঁটে যেতে গিয়ে এক মহিলা পড়ে গিয়ে পা ভেঙে ফেলেছিলেন।

এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শুভ্রা চক্রবর্তীকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।

নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দারা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছেন। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

তৃণমূল নেতার বক্তব্য
যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা তাপস চক্রবর্তী বলেন, বর্ষা বেশি হওয়ার কারণে সব জায়গায় জল উঠে আছে। তিনি দাবি করেন, “আমরা নিকাশী নালা পরিষ্কার করছি। সমস্ত রাস্তার টেন্ডার পাশ হয়ে আছে, সব জায়গায় আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।” নাবালিকার মৃত্যুতে তিনি শোকও প্রকাশ করেছেন।

তবে তৃণমূল নেতার এই আশ্বাসে চিঁড়ে ভিজছে না স্থানীয়দের। তাঁরা বলছেন, দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন বিপর্যয় ঘটতে পারে।