রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ট্রাফিক আইন নিয়ে কড়াকড়ি তুঙ্গে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের ধরপাকড় আর দেদার কাটা হচ্ছে জরিমানার চালান। তবে সচেতনতার অভাবে অনেক সময় সাধারণ মানুষ অজান্তেই বড় অঙ্কের জরিমানা গুনছেন। ১৯৮৮ সালের কেন্দ্রীয় মোটরযান আইন অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে এখন নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠোর। জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি চালকের জন্য নতুন এই নিয়মনীতি জেনে রাখা বাধ্যতামূলক।
শহরের রাস্তায় হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে আপনাকে গুণতে হতে পারে ৫০০ টাকা জরিমানা, সেই সঙ্গে ৩ মাসের জন্য বাতিল হতে পারে ড্রাইভিং লাইসেন্স। একইভাবে, চারচাকা গাড়িতে সিটবেল্ট না বাঁধলে ৫০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে না পারলে সোজা ৫,০০০ টাকা জরিমানা। গাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র বা পলিউশন সার্টিফিকেট না থাকলে ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। গাড়ির ইনস্যুরেন্স না থাকলে ২০০০ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৩ মাসের জেল পর্যন্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।
চলন্ত গাড়িতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে প্রথমবারের জন্য ১,০০০ টাকা ও দ্বিতীয়বার সেই একই অপরাধে ২,০০০ টাকা জরিমানা হবে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এখন অপরাধের তালিকায় শীর্ষে। ছোট গাড়ির ক্ষেত্রে ১,০০০ টাকা এবং ভারী গাড়ির ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর মতো মারাত্মক অপরাধে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সিগন্যাল অমান্য করলে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা এবং বাইকে দু’জনের বেশি আরোহী থাকলে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
নাবালকদের গাড়ি চালানো নিয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ১৮ বছর বয়সের আগে কেউ গাড়ি চালালে মালিকের ২৫,০০০ টাকা জরিমানা ও ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এছাড়া সেই নাবালকের ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। গাড়ি মডিফাই করা বা উচ্চ শব্দের সাইলেন্সর/হর্ন ব্যবহারের অপরাধে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ রয়েছে। ফ্যান্সি বা ভুল নম্বর প্লেট থাকলে ৫,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
রাস্তায় বেরনোর আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ইনস্যুরেন্স এবং পলিউশন সার্টিফিকেট সঙ্গে রাখা এখন জরুরি। এছাড়া থার্ড-পার্টি মোটর বিমা থাকা বাধ্যতামূলক। জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারীদের অগ্রাধিকার দিন এবং অকারণে হর্ন বাজিয়ে পরিবেশ দূষণ বা বিভ্রান্তি তৈরি করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আইন জানা থাকলে বিপদে পড়ার ভয় থাকে না। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।





