সুগন্ধি তুলাইপাঞ্জি ধানের চাষ, তাও আবার সম্পূর্ণরূপে জৈব সার ব্যবহার করে—শুনে অবাক লাগলেও এই ব্যতিক্রমী পথেই বিপুল সাফল্য অর্জন করে পথ দেখাচ্ছেন গঙ্গাসাগর এলাকার চাষি পরিমল মণ্ডল। শুধু লাভ নয়, এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিচ্ছেন।
পরিমল মণ্ডল বর্তমানে ৩ বিঘা জমিতে তুলাইপাঞ্জি ধান চাষ করছেন এবং এই চাষে তিনি কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করছেন না। তাঁর মতে, জৈব সার প্রয়োগ করে ধান চাষ করলে ধানের গুণগত মান যেমন বাড়ে, তেমনই বিভিন্ন রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও নিস্তার মেলে। ধানের ফলনও অন্যান্য হাই-ইল্ডিং ধানের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে বলে মত পরিমলবাবুর।
জৈব পদ্ধতিতে চাষের কৌশল ও লাভ
সাধারণত হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিতে তুলাইপাঞ্জি ভালো চাষ হয়। পরিমলবাবু জানান, জৈব সার দিয়ে চাষ করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেই সার তৈরি করেন। এই সারের উপাদানের মধ্যে রয়েছে— গরুর গোবর, ভার্মি কম্পোস্ট, সরিষার খোল, নিম খোল এবং গোমূত্র সহ সবজি পচিয়ে তৈরি সার।
জমি তৈরি: ধান রোপন করার সময় তিনি সরিষার খোল, নিম খোল এবং ভার্মি কম্পোস্ট দিয়ে জমি তৈরি করেন।
রোগপোকা দমন: তুলাইপাঞ্জি ধানে রোগপোকার আক্রমণ তেমন না হওয়ায় কীটনাশক প্রয়োগের খুব একটা দরকার পড়ে না। তবুও পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি নিম তেলের সঙ্গে জৈব কীটনাশক স্প্রে করেন এবং ছত্রাক রোধ করতে টাইকোডামা ভ্যারাইটি ব্যবহার করেন।
এ বছর ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো হওয়ায় এবং বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাটে ও বাজারে তুলাইপাঞ্জি কেজি প্রতি ১৫০ – ১৭০ টাকা দরে বিকোচ্ছে।
অন্যান্য চাষিদের প্রতি বার্তা
ধানচাষি পরিমল মণ্ডল মনে করেন, জৈব পদ্ধতিতে তুলাইপাঞ্জি ধান চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন:
“যদিও এই চাষে কিছু ক্ষেত্রে খরচ বেশি হতে পারে। তবুও রাসায়নিক সার পরিহার করে জৈব সার ব্যবহার করলে চালের গুণমান ও ফলন বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্যকর পণ্য হিসেবে বাজারমূল্যও বাড়ে। বাজারজাত করার সঠিক ব্যবস্থা থাকলে জেলার চাষিরা ভালো লাভ করতে পারেন।”
চালের সুগন্ধ ও গুণগত মান ধরে রাখতে বর্তমানে কৃষি দফতরের আধিকারিক ও প্রযুক্তি সহায়কদের পাশাপাশি পরিমলবাবুও জেলা জুড়ে চাষিদের জৈব সার প্রয়োগ করে চাষ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।