আন্দোলনের মুখে বড় ধাক্কা! বাতিল হওয়া পরীক্ষার দাবিতে ঝাড়খণ্ড সচিবালয়ের বাইরে চাকরিপ্রার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ

ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বর্তমানে এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৯ আগস্ট রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আকস্মিক এক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণা করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়া প্রায় ২,৭০০ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ঝাড়খণ্ড সচিবালয়ের বাইরে এক বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী নায়ক বীরসা মুণ্ডা এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। সচিবালয়ের চত্বর জুড়ে তাঁরা ‘‘ন্যায় দাও বা ফাঁসি দাও’’ এবং ‘‘শরম করো, করম করো’’ের মতো স্লোগান তুলে রাজ্য সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (JSSC-CGL) পরীক্ষার সফল প্রার্থীরাও বড় সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন।

দেবঘরের কল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত রমেশ মণ্ডল গত ১৯ আগস্ট থেকে এই টানা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন না সরকার তাঁদের মেধার স্বীকৃতি দিয়ে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছে, ততদিন তাঁদের এই লাগাতার আন্দোলন চলবে। চন্দা কুমারী নামের অপর এক আন্দোলনকারী প্রার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘কোনো সন্তোষজনক কারণ বা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই সরকার আমাদের বছরের পর বছর ধরে করা পরিশ্রমের ফল কেড়ে নিয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’’

যদিও গত বুধবার ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ১১তম ও ১৩তম জেপিএসসি (JPSC) পরীক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে সরকারের তরফ থেকে বাতিল করা মোট ২২টি পরীক্ষার সমস্ত ক্ষেত্রে এই রক্ষাকবচ প্রযোজ্য হয়নি। ফলে জেএসসি-সিজিএল সহ বাকি পদগুলির প্রার্থীরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (CID) বিশেষ তদন্ত দল (SIT) ২০২৩ সালের জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রায় ৩৭ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বিরোধী দলগুলি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোড়েন বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ড সৃষ্টির ২৬ বছর এবং বর্তমান ‘আবুয়া’ সরকারের ৭ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও রাজ্যে একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। সরকার যদি একটুও আন্তরিক হতো, তবে ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া উচিত ছিল।’’

অন্যিদকে, ‘জেপিএসসি-জেএসসি রিফর্মস মঞ্চ’ সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেছে যে, উচ্চ আদালতে শুনানির সময় সরকারের শীর্ষ আইন আধিকারিকদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে তাঁরা সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদাসীন। মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া এই তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।