রাষ্ট্রপতি পদে নাম ঘোষণা হতেই বড় মোড়! ভোটের যুদ্ধে লড়বেন হিরো আলম?

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২০ অগাস্ট এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৪ জুলাই পূর্বঘোষিত মেয়াদের প্রায় দু’বছর আগেই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন ইস্তফা দেওয়ায় এই নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে প্রার্থী করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নিপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই লড়াইয়ে মির্জা ফখরুলের জয় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই ধরে নিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফাঁকা হতে চলা আসন ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পূর্বেই মির্জা ফখরুলকে তাঁর বর্তমান সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। ফলে আসনটি শূন্য হওয়া মাত্রই সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও দলের অন্দরে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, এই আসনে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের পরিবারের কোনো সদস্যও প্রার্থী হতে পারেন।
ভোটের ময়দানে নামছেন হিরো আলম?
এই আবহে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটির উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নতুন ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামেই বেশি পরিচিত। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, পূর্বে তিনি অন্য কোনো আসন থেকে লড়ার কথা ভাবলেও, এই আসনটি ফাঁকা হওয়ার খবর পাওয়ার পরই নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন।
হিরো আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকার সাধারণ মানুষ ও তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা চান তিনি উত্তরাঞ্চলের কোনো আসন থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। সেই জনমানসের কথা মাথায় রেখেই তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে এই আসনে লড়াই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান যে, সাধারণ মানুষের অধিকার সুনিশ্চিত করতেই তিনি এই রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামতে চলেছেন। সবমিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও তার পরবর্তী উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন তীব্র গতিপ্রকৃতি নিয়েছে।