রাষ্ট্রপতির সমান প্রোটোকল চাইতেন ধনখড়, হোটেল থেকে বিমান সবটাই! দাবি সূত্রের

দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনখড়-এর আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তাঁর পদত্যাগের কারণ নিয়ে জল্পনা চলছে। এর মধ্যেই নতুন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জগদীপ ধনখড় রাষ্ট্রপতির সমান প্রোটোকল চাইতেন এবং এই অভ্যাসকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকবার বিদেশ সফরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয়েছিল।
প্রোটোকল নিয়ে মতবিরোধ
ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, জগদীপ ধনখড় একাধিকবার বিদেশ সফরের সময় রাষ্ট্রপতির মতো সম্মান ও প্রোটোকল প্রত্যাশা করতেন। এর জেরে সরকারি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বারবার মতবিরোধ হয়েছে। সূত্রের খবর, হোটেলের ঘর থেকে শুরু করে বিমান পর্যন্ত, ধনখড়ের মনে হয়েছিল যে তাঁকে সঠিক সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।
তেহরানে হোটেল ও বিমান নিয়ে আপত্তি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান সফরে গিয়ে ধনখড় নিজের হোটেলের ঘর নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল যে, ইরানে ভারতীয় দূতাবাস তাঁর পদমর্যাদা অনুযায়ী ঘর বরাদ্দ করেনি। যদিও ভারতীয় দূতাবাস স্পষ্ট করে জানায় যে, আবাসন ব্যবস্থা আয়োজক সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।
সেই সফরের সময়ই ধনখড় তাঁর ব্যবহৃত বিমান নিয়েও আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন যে, উপরাষ্ট্রপতির জন্য আরও বড় বিমান থাকা উচিত। তিনি বারবার বলেছেন যে, বিদেশ সফরে তিনি রাষ্ট্রপতির মতো প্রোটোকল আশা করেন। সূত্রের খবর, কর্মকর্তারা তাঁকে বোঝান যে, প্রোটোকলের দিক থেকে অনেক ছোট দেশের রাষ্ট্রপতির পদও ভারতের উপরাষ্ট্রপতির চেয়ে উপরে থাকে।
‘আমার উত্তরসূরির ছবি থাকবে’
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে জগদীপ ধনখড় বলেছিলেন, “আপনারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখেছেন, কিন্তু উপরাষ্ট্রপতির ছবি দেখেননি। আমি যখন অফিস ছাড়ব, তখন আমি নিশ্চিত করব যে আমার উত্তরসূরির ছবিও থাকে।”
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জগদীপ ধনখড় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় খুব পরিচিত মুখ ছিলেন না। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এবং পরবর্তীতে উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিলেন। তবে মেয়াদ শেষের আগেই তাঁর পদত্যাগ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই বিতর্ক কি তাঁর পদত্যাগের মূল কারণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।