রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথ! অনুদান আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় মন্দির চত্বর

অযোধ্যায় রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত বদ্রীনাথ ধাম। পবিত্র এই তীর্থস্থানে প্রাপ্ত অনুদান এবং মন্দিরের অর্থ তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। শুক্রবার ‘ভৈরব সেনা’ নামে একটি সংগঠন সরাসরি বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (BKTC) বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তোলে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে মন্দির কমিটির সভাপতির দপ্তরের কর্মীদের দিকে।

এই সংবেদনশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বিকেটিসি। কমিটির সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি স্বচ্ছভাবে খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত কর্মীদের কাছে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, সভাপতির ব্যক্তিগত সচিব অর্থ আত্মসাতে যুক্ত। তবে হেমন্ত দ্বিবেদী এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত সহকারী নন, বরং বিকেটিসি-র একজন নিয়মিত সরকারি কর্মী। এর আগেও তিনি মন্দির কমিটির তিনজন প্রাক্তন চেয়ারম্যানের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সভাপতির কথায়, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৯৩৯ সালের শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি আইন এবং কর্মী আচরণ বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে, মন্দিরের সিইও সোহন সিং রাঙ্গাদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বদ্রীনাথ মন্দির চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে সেই ফুটেজে স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় বিষয়টি আরও গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “বিষয়টি লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত, তাই আমরা অত্যন্ত সতর্ক। একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তারা সমস্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে।”

সিইও আরও জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। অন্যদিকে, সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর জন্য সাধারণ ভক্ত ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মন্দির কমিটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে কি না, তাও তদন্তের পরিধির মধ্যে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের রিপোর্টে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে।