ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের SIR-বিরোধী ধরনা আজ তৃতীয় দিনে পদার্পণ করল। একদিকে যখন মেট্রো চ্যানেলের মঞ্চ থেকে ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, ঠিক তখনই কলকাতায় পা রাখছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) ফুল বেঞ্চ। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ, অন্যদিকে প্রশাসনিক তৎপরতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে রবিবাসরীয় কলকাতা এখন টগবগ করে ফুটছে।
কালো শাড়িতে অভিনব প্রতিবাদ, নিশানায় রান্নার গ্যাস
রবিবার সকালে ধরনা মঞ্চে এক অন্য দৃশ্য ধরা পড়ল। SIR-এর দাবির পাশাপাশি এদিন রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূলের মহিলা শাখা।
-
মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা এবং কৃষ্ণা চক্রবর্তীরা কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদে সামিল হন।
-
মঞ্চের ওপর থালা ও কড়াই বাজিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। তৃণমূল নেত্রীদের দাবি, একদিকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে আগুন লাগিয়েছে কেন্দ্র।
কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চ: নজরে ভোট প্রস্তুতি
এ দিনই বিকেলে শহরে আসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর আগেই শহরে পৌঁছে গিয়েছেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। ১০ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে:
-
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক।
-
জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও ভোট প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা।
-
ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ।
SIR বিতর্ক ও কমিশনের অবস্থান
কলকাতায় আসার ঠিক আগেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, SIR একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং এর মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের মূল আপিল সেই ৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে, যাঁদের নাম বর্তমানে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারধীন অবস্থায় রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না।” এই ‘গ্রে এরিয়া’ বা অস্পষ্টতাকে হাতিয়ার করেই আন্দোলনের সুর আরও চড়া করছে ঘাসফুল শিবির।
ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেমন দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, তেমনই কমিশনের ফুল বেঞ্চের এই সফর বাংলার আসন্ন ভোটের সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।