মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, তার আঁচ এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কটে দেশের খাদ্য মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। বড় বড় শহরের নামী রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাথের চ চায়ের দোকান—গ্যাসের অভাবে তালা ঝুলছে সর্বত্র। কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার হোটেল কর্মী। এই চরম দুর্দশার মাঝেই জীবন বাঁচাতে মানুষ এখন বেছে নিচ্ছে বিকল্প পথ।
গ্যাস জ্বালানোর উপায় নেই, তাই মানুষের ভরসা এখন ‘রেডি-টু-ইট’ খাবার। ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে তাদের প্ল্যাটফর্মে ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং পানীয়র বিক্রি এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা, দিল্লি, হায়দ্রাবাদের মতো মেগাসিটির পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামেও এই প্রবণতা তুঙ্গে। রান্নার ঝক্কি এড়াতে মানুষ এখন শুকনো খাবারেই পেট ভরাচ্ছে।
সিলিন্ডার না পেয়ে রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দিকে ঝুঁকছেন গৃহস্থরা। অনলাইন শপিং সাইটগুলোর দাবি, ইন্ডাকশন কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলি-র চাহিদা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছে গ্যাজেট কোম্পানিগুলি।
গ্যাস সাশ্রয় করবেন কীভাবে? BPCL-এর ৫ পরামর্শ
সিলিন্ডার যেহেতু অমিল, তাই যতটুকু আছে তা সাশ্রয় করতে ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কিছু টিপস শেয়ার করেছে:
১. প্রেসার কুকারের জাদু: রান্নার সময় যতটা সম্ভব প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন। এটি সবথেকে দ্রুত ও কার্যকর উপায়।
২. আঁচ কমান, গ্যাস বাঁচান: অল্প আঁচে রান্না করলে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত এলপিজি সাশ্রয় করা সম্ভব।
৩. ইন্ডাকশনের মেলবন্ধন: সিলিন্ডারের ওপর চাপ কমাতে বাড়িতে একটি বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন স্টোভ রাখুন এবং ছোটখাটো রান্না সেখানেই সারুন।
৪. আগে ভেজান, পরে রাঁধুন: চাল বা ডাল রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখুন। এতে খুব অল্প সময়ে সেদ্ধ হবে এবং গ্যাস বাঁচবে।
৫. চাপা দিয়ে রান্না: কড়াইতে রান্নার সময় সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করুন। এতে তাপ বাইরে বেরোতে পারে না এবং খাবার দ্রুত তৈরি হয়।