ওয়াশিংটন: ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হয়ে গিয়েছিল আগেই। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি অ্যাকশনে নেমে পড়ল আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবার হাতের বাইরে যাওয়ার জোগাড়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া নির্দেশে এবার ইরানের সমস্ত বন্দরে জলপথে অবরোধ শুরু করছে মার্কিন বাহিনী।
আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে অবরোধ
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ ১৩ এপ্রিল, সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিট থেকে এই কড়া অবরোধ কার্যকর করা হবে। এর ফলে ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ যেমন বেরোতে পারবে না, তেমনই বিদেশি কোনো জাহাজ সেখানে ঢুকতেও পারবে না। মার্কিন নৌসেনার জাহাজ ও ভেসেলগুলি ইতিমধ্যেই ওমান উপসাগর এবং আরব উপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
হরমুজ নিয়ে কড়া বার্তা
তবে আমেরিকা স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের নিশানায় শুধুমাত্র ইরান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে:
হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান ছাড়া অন্য সব দেশের জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে।
অন্য দেশের নাবিকদের ওমান উপসাগরে চলাচলের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে চ্যানেল ১৬-এ যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।
কোনো দেশের জাহাজ যেন ইরানকে ‘অবৈধ টোল’ না দেয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
কেন এই চরম পদক্ষেপ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে তেলের বাজারে ‘পেট্রোডলার’ আধিপত্যের লড়াই। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বেশ কিছু জাহাজ লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বদলে চিনা ইউয়ান ব্যবহার করছে। একে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অমর্যাদা এবং ডলারের ওপর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। মূলত এই চিনা প্রভাব রুখতেই ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার পথে হাঁটলেন ট্রাম্প।
যুদ্ধের কালো মেঘ
১৪ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের এই আগ্রাসী পদক্ষেপে এখনও পর্যন্ত তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরান যদি এই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড়সড় যুদ্ধ শুরু হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ভারতের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে।





