রাত-দিন চিতার মতো শিয়াল! লোকালয়ে উপদ্রব বাড়ায় পূর্ব বর্ধমানের গ্রামে দল বেঁধে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক ও দিনমজুররা

পূর্ব বর্ধমান জেলার সোনাপলাশী গ্রামে শিয়ালের উপদ্রব চরম আকার নিয়েছে। জঙ্গল ছেড়ে শিয়াল এখন শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের আলোতেও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং আক্রমণ চালাচ্ছে। এই আকস্মিক হামলায় গ্রামবাসীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ভয়ে দল বেঁধে কাজ:

গ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মাঠে কাজ করা। মাঠে কাজ করতে যাওয়া দিনমজুর এবং কৃষকদের এখন প্রাণের ভয়ে দল বেঁধে কাজ করতে হচ্ছে। এটি যেন এক অলিখিত যুদ্ধের ময়দান! স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, একা থাকার অর্থই হলো শিয়ালের নখের বা দাঁতের শিকার হওয়া।

ইতিমধ্যেই শিয়ালের আক্রমণে অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। কিছুদিন আগে এক গ্রামবাসী আহত হন, এবং সম্প্রতি ধান কাটতে মাঠে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এক কৃষক দিলীপ সিং। তিনি জানান, “ধান কাটতে মাঠে যাওয়ার পরই পিছন থেকে শিয়াল আমাকে আক্রমণ করে। হাতে, পায়ে কামড় বসায়। আমার চিৎকারে আশপাশের লোক এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”

সন্ধ্যার পর শুনশান রাস্তাঘাট:

সূর্য ডুবলেই গ্রামের পরিস্থিতি বদলে যায়। যে রাস্তাগুলিতে দিনে মানুষের স্বাভাবিক আনাগোনা থাকে, সন্ধ্যার পর তা শুনশান হয়ে যাচ্ছে। চারপাশের নীরবতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক। গ্রামবাসী জোতিপ্রকাশ ব্যানার্জি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর শিয়ালের উপদ্রব অনেক বেড়েছে। শিয়াল এখন আর শুধু ঝোপে লুকিয়ে থাকছে না, লোকালয়ে চলে আসছে।

গ্রামবাসীরা বলছেন, দিনের বেলাতেও যখন শিয়াল আক্রমণ করছে, তখন রাতে প্রয়োজনে তাঁরা কীভাবে বাইরে যাবেন? সবচেয়ে বেশি ভয় বাড়ছে ছোট শিশুদের নিয়ে।

বনদপ্তরের আশ্বাস:

এবিষয়ে উদ্বিগ্ন গ্রামবাসীরা দ্রুত সমাধান চাইছেন। অতিরিক্ত বনাধিকারিক (বর্ধমান বিভাগ) মৃণালকান্তি দাস জানান, শিয়ালের আক্রমণ ঠেকাতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে, শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও লোকালয়ে শিয়ালের এই উপদ্রব সোনাপলাশী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।