রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। ঠিক এই আবহে উত্তর ২৪ পরগনার এক প্রত্যন্ত সীমান্ত গ্রামে সাধারণ গাড়িতে চেপে কোনো রকম আড়ম্বর ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে হাজির হলেন রাজ্যের নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। আর সেখানে পৌঁছানোর পর ভারতের মাটিতে বেআইনিভাবে ঘাঁটি গেড়ে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এক কড়া ও নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “রাতের অন্ধকারে যেখান থেকে এসেছেন, সেখানেই পালিয়ে যান। নইলে কিন্তু সামনে মস্ত বড় বিপদ আসছে!”
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই মন্ত্রীদের ‘ভিআইপি কালচার’ বা লালবাতি সংস্কৃতির দাপট কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে নবান্ন। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই এদিন কোনো সরকারি পাইলট কার বা সাইরেন বাজানো কনভয় ছাড়াই, একেবারে সাধারণ পাঁচজন মানুষের মতো একটি সাধারণ গাড়ি চড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামে পৌঁছে যান নতুন খাদ্যমন্ত্রী। মন্ত্রীকে এভাবে আচমকা নিজেদের মাঝে একেবারে সাদামাটা পোশাকে দেখে চমকে যান স্থানীয় গ্রামবাসীরাও।
গ্রামের মানুষের সঙ্গে জনসংযোগের সময় নিজের এই সাদামাটা জীবনযাপনের ব্যাখ্যাও দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও কোনো দিন লালবাতির গাড়ি বা বাড়তি ভিআইপি সুবিধা ব্যবহার করেন না। আমিও সাধারণ ঘরের ছেলে, তাই সাধারণ মানুষের মতোই মাঠে-ঘাটে চলাফেরা করতে ভালোবাসি। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কোনো রকম বাবুয়ানি করার দিন এবার শেষ।”
তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার মাঝেই সীমান্তের জ্বলন্ত অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন খাদ্যমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকা থেকে রেশন কার্ডের অপব্যবহার এবং ভুয়ো নথি তৈরি করার চক্র উপড়ে ফেলতে ইতিমধ্যেই খাদ্য দফতর তল্লাশি শুরু করেছে। সেই সূত্রেই অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে ঢুকে সাধারণ মানুষের রুজি-রুটিতে ভাগ বসাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে। প্রশাসন কড়া অ্যাকশন নেওয়ার আগেই তারা যেন নিজে থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে রাতের অন্ধকারেই পিছু হটে।
সীমান্ত গ্রামে দাঁড়িয়ে খাদ্যমন্ত্রীর এই হাই-ভোল্টেজ হুঁশিয়ারি এবং তাঁর লালবাতি বর্জনের এই নয়া রূপ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, খাদ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং কড়া হুঁশিয়ারি সীমান্ত এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ ও রেশন দুর্নীতি রুখতে আগামী দিনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা নেয়।





