নজিরবিহীন আর্থিক সংকটের মুখে রাজ্যের অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। তহবিলে অর্থের টান বা ‘পোসিটি অফ ফান্ড’-এর কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আধিকারিক এবং শিক্ষাকর্মীদের আগামী মার্চ মাসের বেতন রিলিজ করতে অস্বীকার করল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাশ ভবন থেকে লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অফিসারকে এই দুঃসংবাদ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই বিভাজন? বিস্ময়কর বিষয় হলো, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মার্চ মাসের বেতনের জন্য প্রায় ৩.৪৮ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে দপ্তর। কিন্তু শিক্ষাকর্মী ও অফিসারদের জন্য প্রয়োজনীয় ৬ কোটি ৫৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ২৪৭ টাকা দিতেই দেখা দিয়েছে অনীহা। বিকাশ ভবনের কর্তাদের যুক্তি, শিক্ষকদের তুলনায় কর্মী ও অফিসারদের সংখ্যার নিরিখে বেতনের অঙ্ক অনেক বেশি। চলতি অর্থবর্ষে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ বাজেটের ঊর্ধ্বসীমা প্রায় ছুঁয়ে ফেলায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উপাচার্যের উদ্বেগ ও ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি নিয়ে টানাপড়েন চলছিলই, এখন বেতন নিয়েও সমস্যা শুরু হলো। শিক্ষাকর্মীরা সময়মতো টাকা না পেলে বেশি সমস্যায় পড়বেন।” শিক্ষা মহলের মতে, মার্চের বেতন যা এপ্রিলের শুরুতে পাওয়ার কথা, তা নিয়ে ফেব্রুয়ারিতেই দপ্তরের তরফে এমন ‘না’ বলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
বিকাশ ভবনের সাফাই উচ্চশিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রথম তিনটি কোয়ার্টারের খরচের শংসাপত্র (Utilisation Certificate) না পাওয়ায় রাজ্য অর্থ দপ্তর থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ মিলছে না। তবে এটি একটি সাময়িক সমস্যা এবং অর্থবর্ষের শেষ বলেই এই টানাপড়েন চলছে। শুধু বর্ধমান নয়, আগামী দিনে কলকাতা বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলিতেও একই নির্দেশিকা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিজস্ব তহবিলের প্রশ্ন অন্যান্য বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অনেক সময় সরকারি টাকার অভাবে নিজস্ব তহবিল থেকে বেতন মিটিয়ে দেয়। কিন্তু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ৩৯ কোটি টাকারও বেশি (পেনশন ও বেতন মিলিয়ে) বকেয়া মেটানোর মতো নিজস্ব সক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের ‘কমিটেড ভ্যালু’-র টাকাও আটকে থাকায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে ক্যাম্পাসে।