স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) গ্রুপ-সি (Group-C) ও গ্রুপ-ডি (Group-D) শিক্ষাকর্মী নিয়োগের আবেদনের হার রাজ্যে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমার প্রশ্ন তুলছে। যেখানে ২০১৬ সালে এই দু’টি বিভাগে প্রায় ১৮ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল, সেখানে এবার নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮ লক্ষের মতো আবেদন জমা পড়েছে—যা আগের বারের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
আবেদনের সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়াতে বাধ্য হল কমিশন। সোমবার এসএসসি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই শূন্যপদে আগামী ৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন জানানো যাবে। আগে নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল ৩ ডিসেম্বর।
আবেদন কমার কারণ নিয়ে জল্পনা
আবেদনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ওয়াকিবহাল মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে: নতুন প্রজন্ম কি রাজ্য সরকারি চাকরিতে আস্থা হারাচ্ছে? কম আবেদন আসার পিছনে মূলত দুটি কারণ উঠে আসছে:
-
আস্থা ও অনিশ্চয়তা: বিগত কয়েক বছরে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা, স্থগিতাদেশ, এবং বাতিল তালিকার মতো জটিলতার জেরে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর আস্থা হারিয়েছেন। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও আদালত-নির্ভর নিয়োগপদ্ধতি আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে।
-
বিকল্প পেশা: ২০১৬ সালে ‘যোগ্য’ হয়েও চাকরিহারাদের একাংশ হতাশ। দীর্ঘদিন বেতনহীন অবস্থায় থাকায় অনেকে জীবিকার তাগিদে বিকল্প কাজ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং নতুন করে আবেদন করার উৎসাহ পাচ্ছেন না।
শূন্যপদ ও আবেদনের চিত্র
-
দুর্নীতির অভিযোগে চলতি বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের শিক্ষাকর্মী নিয়োগ সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়।
-
শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এসএসসি।
-
গ্রুপ-সি-তে শূন্যপদ: ২ হাজার ৯৮৯টি।
-
গ্রুপ-ডি-তে শূন্যপদ: ৫ হাজার ৪৮৮টি (মাধ্যমিক পাশ করলেই আবেদন করা যায়)।
এত শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও আবেদনের এই হতাশাজনক চিত্র এটাই স্পষ্ট করে যে, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা নষ্ট করেছে। কমিশনের একাংশ যদিও মনে করছে, শেষ মুহূর্তে আবেদন জমা দেওয়ার প্রবণতাকে সুযোগ দিতেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।