রাজ্যের স্কুলগুলিতে আদা-রসুন চাষের উদ্যোগ, মিড ডে মিলের খরচ কমিয়ে স্বনির্ভরতার দিশা

মিড ডে মিলের জন্য প্রয়োজনীয় আদা-রসুন এখন আর বাইরে থেকে কিনতে হবে না। রাজ্য সরকারের উদ্যান পালন দফতরের এক অভিনব উদ্যোগে এবার থেকে স্কুলেই চাষ হবে এই মশলা। আর এই চাষের দায়িত্বে থাকবে স্বয়ং ছাত্রছাত্রীরাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ুয়াদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং স্কুলের খরচ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, আদা-রসুন কেনার খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকা স্কুলের অন্য প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয়ত, পড়ুয়ারা চাষের প্রশিক্ষণ পেলে তারা বাড়িতেও তা কাজে লাগাতে পারবে, যা তাদের পরিবারের জন্য একটি বিকল্প আয়ের উৎস হতে পারে। তৃতীয়ত, উদ্বৃত্ত আদা-রসুন বাজারে বিক্রি করে স্কুল তার নিজস্ব তহবিলে অর্থ যোগ করতে পারবে।

স্কুলেই চাষ হবে আদা-রসুন:

রাজ্যের উদ্যান পালন দফতর স্কুলগুলিকে এই চাষের জন্য গ্রো-ব্যাগ ও বীজ সরবরাহ করবে এবং পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণও দেবে। যেসব স্কুলের সামনে বাগান রয়েছে, সেখানে ‘কিচেন গার্ডেন’ তৈরি করে চাষ করা হবে। জায়গা না থাকলে স্কুলের ছাদেও ‘ছাদবাগান’ করে এই চাষ সম্ভব হবে।

হুগলিতে প্রশিক্ষণ শুরু:

বুধবার হুগলির মগরা প্রভাবতী বালিকা বিদ্যালয় এবং চুঁচুড়া সুকান্তনগর অনুকূলচন্দ্র শিক্ষাশ্রমের পড়ুয়াদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হুগলির চুঁচুড়ায় উদ্যান পালন দফতরে গ্রো ব্যাগে কোকো পিট ও মাটি ব্যবহার করে কীভাবে আদা-রসুন চাষ করতে হয়, তা শেখানো হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উদ্যান পালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী অরূপ রায়। প্রথম ধাপে হুগলির ২০টি স্কুলের পড়ুয়াদের বিনামূল্যে চাষের সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মন্ত্রীর বক্তব্য:

মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, “আমাদের রাজ্যে আদা ও রসুনের উৎপাদন কম, ফলে অনেক সময় দাম বেড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আদা-রসুন চাষের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রতিটি স্কুলকে এই চাষে যুক্ত করতে পারলে মিড ডে মিলে আদা-রসুনের অভাব হবে না।” তিনি আরও জানান যে, স্কুলের ছাদে বা বাগানে যেখানেই জায়গা থাকুক, সেখানেই চাষ করা যাবে। এই উদ্যোগে পড়ুয়ারা যেমন কৃষিকাজে আগ্রহী হবে, তেমনই মাশরুম চাষের মতো পুষ্টিকর খাবারের উৎপাদনেও উৎসাহিত করা হবে।

পড়ুয়া ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া:

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নয়নমনি সরকার বলেন, “স্কুলে এই চাষ শেখার পর আমরা বাড়িতেও এটি করতে পারব। এতে মিড ডে মিলে আমাদের সুবিধা হবে।” স্কুলের শিক্ষক হাসমত আলি জানান, এই সহজ পদ্ধতিতে চাষ করলে স্কুলের খরচ অনেক কমবে এবং ছোটরাও স্বনির্ভরতার পাঠ নিতে পারবে।

উদ্যান পালন দফতরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, “এই সহজ ও পরিবেশবান্ধব চাষের মাধ্যমে আমরা পরনির্ভরতা কমাতে পারব এবং চাষিদেরও আদা-রসুন চাষে উৎসাহিত করা যাবে।”