বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বাংলার আকাশ-বাতাস ফের ‘ভোট পরবর্তী হিংসার’ মেঘে আচ্ছন্ন। উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রমাগত অশান্তি, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর আক্রমণের খবর আসছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার কড়া ভাষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাফ জানালেন, অবিলম্বে ‘আইনের শাসন’ কার্যকর না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
রাজ্য রাজনীতির বর্তমান আবহে বাম শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিরোধীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ কর্মীরা। বুধবার এক বিবৃতিতে মহম্মদ সেলিম বলেন, “ভোট শেষ হওয়ার মানে এই নয় যে জঙ্গলরাজ শুরু হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রাথমিক কাজ। যদি পুলিশ-প্রশাসন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকে, তবে মানুষ নিজের সুরক্ষায় আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।”
সেলিমের বার্তায় ৩টি প্রধান দিক:
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা: হিংসা রুখতে পুলিশের একাংশের নির্লিপ্ত মনোভাবকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
শান্তি বজায় রাখার আবেদন: দলীয় কর্মীদের প্ররোচনায় পা না দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।
আইনের শাসন: নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই যেভাবে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে, তাকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন সেলিম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে মহম্মদ সেলিমের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন বিজেপি সরকার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর নিচুতলায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে।
মহম্মদ সেলিম আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আক্রান্ত কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে দল সবরকমভাবে পাশে থাকবে। বাংলায় রাজনীতির নামে এই ‘রক্তের হোলি’ কবে বন্ধ হবে, এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ নাগরিকরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাজভবন বা নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।





