রাজস্থানে গর্ভবতী তরুণীর রহস্যমৃত্যু, পণের দাবিতে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

বিয়ের পর থেকেই চরম শারীরিক নির্যাতন ও পণের জন্য হেনস্থার শিকার হয়ে অবশেষে স্বামীর হাতে খুন হলেন এক গর্ভবতী তরুণী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের টঙ্ক জেলায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত গৃহবধূর নাম মণীশা। মাত্র ছ’মাস আগে কুলদ্বীপ নায়ক নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কুলদ্বীপ নায়ক একজন পুলিশ আধিকারিকের অফিসে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ এই রহস্যমৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ টঙ্ক থানার অন্তর্গত একটি এলাকা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের গুরুতর অভিযোগ: মণীশার ভাই প্রহ্লাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই কুলদ্বীপ আরও পণের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। পণ না দিলে পুলিশি কড়া পদক্ষেপ করারও হুমকি দিতেন। তাঁর অভিযোগ, কুলদ্বীপ রোজ সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন।

পরিবারের অভিযোগ, কুলদ্বীপ মণীশাকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিতেন না। তবে গোপন সূত্রে জানা গিয়েছিল, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার পরেও মণীশাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ মামলা রুজু করে কুলদ্বীপ নায়কের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

বিহারে পণের জন্য নববধূর গলায় ফাঁস: স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ
গত আগস্ট মাসে পণের দাবিতে আরও এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বিহারের খাগাড়িয়া জেলার বরখান্দি তোলা গ্রামে। পণের জন্য সদ্য বিবাহিত তরুণীর গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, তরুণীর সঙ্গে বিভীষণ যাদব-এর বিয়ে হয়েছিল এক বছর আগে। তরুণীর বাবা জাদো যাদব জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা আরও সোনার গয়না ও গাড়ির দাবি করতেন।

দুই মাস সময় চাওয়ার ফল: তরুণীর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তিনি আর দুই মাস সময় চেয়েছিলেন পণের দাবি পূরণ করার জন্য। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়। এক আত্মীয় জানান, সোনার গয়না না পেলে তরুণীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

তরুণীর ভাইয়ের অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং পরে তাঁর দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তরুণীর শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দিলেও, অভিযুক্ত স্বামী বিভীষণ যাদব ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বর্তমানে পলাতক।