রাজভবন ছেড়ে সটান কালীঘাটে! ভোটের ফল বেরোতেই সস্ত্রীক ধুতি-পাঞ্জাবিতে কেন ছুটলেন রাজ্যপাল?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যখন প্রবল পালাবদলের হাওয়া, ঠিক সেই সন্ধিক্ষণেই এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক মেজাজে ধরা দিলেন বাংলার রাজ্যপাল আর এন রবি। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরদিন, মঙ্গলবার সকালে সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছে গেলেন তিনি। তবে কেবল তাঁর উপস্থিতিই নয়, রাজ্যপালের পোশাক থেকে শুরু করে তাঁর শরীরী ভাষা— সবকিছুই এদিন ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাঙালি সাজে রাজ্যপাল:
সকাল সকাল রাজভবন থেকে বেরিয়ে যখন রাজ্যপালের কনভয় কালীঘাটে পৌঁছায়, তখন তাঁকে দেখে পথচলতি সাধারণ মানুষও থমকে দাঁড়ান। পুরোপুরি বাঙালি সাজে সজ্জিত ছিলেন আর এন রবি। পরনে ধুতি ও পাঞ্জাবি, কাঁধে উত্তরীয়। তাঁর স্ত্রীও ছিলেন সাবেকি সাজে। দক্ষিণেশ্বরের পর বাঙালির সবথেকে বড় এই পীঠস্থানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো দেন তিনি। মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়েই আরতি দর্শন করেন এবং দক্ষিণা কালীমাতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

রাজনীতি নিয়ে মৌনব্রত:
নির্বাচনী ফলাফল এবং রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরা যখনই তাঁকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা নতুন সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্ন করেন, অত্যন্ত কৌশলে তা এড়িয়ে যান রাজ্যপাল। সহাস্য মুখে তিনি বলেন, “রাজনীতি নিয়ে আজ কিছুই বলব না। আমি এখানে এসেছি শুধুমাত্র মায়ের আরাধনা করতে। মায়ের কাছে প্রার্থনা জানাতেই আজ আমার আসা।”

তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ:
উল্লেখ্য, এর আগেও পহেলা বৈশাখের দিন কালীঘাটে পুজো দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। বাঙালি আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে বারবার তাঁর এই মন্দির দর্শন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। একদিকে যখন দিল্লিতে সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কলকাতায় আসছেন, ঠিক তখনই রাজ্যপালের এই মন্দির দর্শন এবং বাঙালির প্রথাগত পোশাক পরিধানকে অনেকেই ‘শুভারম্ভের সংকেত’ হিসেবে দেখছেন। ভোটের ফল প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী কয়েক দিন রাজভবনই হতে চলেছে রাজ্যের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy