‘রাজভবনের দরজা সকলের জন্য খোলা’! রাজনৈতিক মতানৈক্যকে গণতন্ত্রের অঙ্গ বললেন রাজ্যপাল, আগামী দুই বছরের কী পরিকল্পনা তাঁর?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে তিন বছরের কার্যকাল পূর্ণ করলেন সিভি আনন্দ বোস। এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সঙ্গে মতানৈক্য থাকলেও, সামগ্রিকভাবে রাজ্যে তাঁর অভিজ্ঞতা ‘খুবই ভালো’ বলে দাবি করেছেন রাজ্যপাল। রবিবার রাজভবনে তিনি প্রথমবার বাংলায় ভাষণ দেন এবং দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘বিকশিত বাংলা তৈরির শপথ’
রাজ্যবাসীকে আগামিদিনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে এক বার্তায় সিভি আনন্দ বোস বাংলায় ভাষণ দেন। তিনি বলেন:
“আমি রাজ্যপাল হিসেবে চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করছি। আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। গোপাল কৃষ্ণ গোখলে বলেছিলেন, বাংলা আজ যা ভাবে, গোটা ভারতবর্ষ তা আগামিকাল ভাববে। চলুন, আরেকবার সেই শপথ গ্রহণ করি। আমাদের সংগ্রাম চলবে। বিকশিত বাংলা তৈরির লক্ষ্যে সকলে একসঙ্গে চলব। আমরা দুর্নীতি ও হিংসাকে শেষ করব।”
আগামী দুই বছরের লক্ষ্য: ‘গ্রামের মানুষের সঙ্গে বেশি সময়’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল জানান, তিনি বাংলার মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ধন্য ভূমিতে এসে আমি সন্তুষ্টি ও আত্মতৃপ্তি লাভ করেছি। আমি এখানকার মানুষকে ভালোবাসি এবং তাঁদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাই।”
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতানৈক্য নিয়ে তিনি বলেন, “রাজভবনের দরজা সকলের জন্য খোলা থাকবে। রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সঙ্গে আমার মতানৈক্য তৈরি হলেও, সামগ্রিকভাবে রাজ্যে আমার অভিজ্ঞতা খুব ভালো। এই চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্রের অঙ্গ বলে আমি মনে করি।”
রাজ্যপাল তাঁর আগামী দুই বছরের মেয়াদে গ্রাম ও সেখানকার মানুষের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সংকল্প ব্যক্ত করেন।
রিচা ঘোষকে ‘রাজ্যপালের শ্রেষ্ঠত্ব পুরষ্কার’
তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজভবনে সারাদিন ধরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে শিশুদের সঙ্গে কেক কাটার পর রাজ্যপাল নিজে ক্যানভাসে রং-তুলি দিয়ে ‘ওঁম’ লেখেন। এছাড়াও যোগাসন, ক্যারাটে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সন্ধ্যার বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের উইকেট-কিপার ব্যাটার রিচা ঘোষকে ‘রাজ্যপালের শ্রেষ্ঠত্ব পুরষ্কার’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়। রিচা ঘোষকে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার, শংসাপত্র ও স্মারক দিয়ে সম্মানিত করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এই অনুষ্ঠানে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ পুরস্কারপ্রাপ্তদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।