২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে উত্তরবঙ্গকে যে বিজেপি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। শুক্রবার কলকাতার রাজ্য সদর দফতরে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ প্রকাশ করলেন বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার, যার পোশাকি নাম ‘ভরসার শপথ’। আর এই ইশতেহারে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ প্রশমন এবং উন্নয়নের একগুচ্ছ রঙিন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির।
🏥 স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বড় চমক
উত্তরবঙ্গের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উন্নত চিকিৎসার অভাব। বর্তমানে সংকটাপন্ন রোগীদের নিয়ে ছুটতে হয় কলকাতা অথবা দক্ষিণ ভারতের নামী হাসপাতালগুলোতে। সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে শাহের ঘোষণা:
উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ এইমস (AIIMS)।
ক্যানসার রোগীদের জন্য গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক ক্যানসার হাসপাতাল।
শিক্ষার প্রসারে উত্তরবঙ্গে নতুন আইআইটি (IIT) এবং আইআইএম (IIM) ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তরের মেধাবী পড়ুয়ারা ঘরের কাছেই বিশ্বমানের শিক্ষার সুযোগ পাবে।
☕ চা-বলয় ও রাজবংশী মন জয়ে বড় বাজি
উত্তরবঙ্গের রাজনীতির তাসের ঘর নির্ধারিত হয় চা-বাগান এবং রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের ওপর। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে খুশি করতে বিজেপির ইশতেহারে রয়েছে:
চা-শ্রমিকদের পাট্টা প্রদান: দীর্ঘদিনের জমি সমস্যার সমাধানে চা-শ্রমিকদের জমির অধিকার বা পাট্টা দেওয়া হবে।
শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষা: চা-বাগান এলাকাতেই আধুনিক মানের স্কুল তৈরি করা হবে।
দার্জিলিং টি-এর ব্র্যান্ডিং: আন্তর্জাতিক বাজারে দার্জিলিং চায়ের হারানো গৌরব ফেরাতে বিশেষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।
ভাষাগত স্বীকৃতি: রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনজাতির দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়েছেন শাহ।
🚀 ভোলবদলের হাতছানি
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার সেই আধিপত্য ধরে রাখতে কেবল আবেগ নয়, বরং উন্নয়নের পরিকাঠামোকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। যদি এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপ পায়, তবে উত্তরবঙ্গের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে যেতে পারে। বঞ্চনার অভিযোগ ঘুচিয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতে শামিল হবে উত্তরের জনপদ।





