রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এবার শুধু আইন! শিলিগুড়ির পর কলকাতার অলিগলিতেও বুলডোজার মডেল

শহর জুড়ে ফের বুলডোজারের কান ফাটানো শব্দ। রবিবার ছুটির দিনে সকাল সকাল কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে এক বিশাল ও কড়া অভিযানে নামল কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। শাসকদলের আমলে দাপিয়ে বেড়ানো একাধিক প্রভাবশালীর সাম্রাজ্য এদিন গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। বেলেঘাটার রাজু নস্কর থেকে শুরু করে কসবার সোনা পাপ্পু—যাঁরা এতদিন নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে বহাল তবিয়তে ছিলেন, তাঁদের তৈরি বেআইনি বহুতলগুলি এখন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযানে পুরসভার সঙ্গে রয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী এবং বেশ কিছু জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

কসবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শুধু অবৈধ নির্মাণ ভাঙা নয়, এর নেপথ্যে থাকা মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, পুরসভার যে আধিকারিকদের নাকের ডগায় এই নির্মাণগুলি দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।” মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেও।

শহরের বেআইনি নির্মাণের দায়ভার নিয়ে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা বর্তমান মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন অগ্নিমিত্রা। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “এত সরু রাস্তায় কীভাবে আকাশছোঁয়া বাড়ি তৈরির অনুমতি মিলল? ফিরহাদ হাকিম ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তা জানতে পারলেন না? অথচ আমরা ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যেই সব জেনে গেলাম!”

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান শহরবাসীর কাছে স্পষ্ট। কার্যত উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজার মডেল’ এখন কলকাতার রাস্তায়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্ডিং আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হওয়া বহুতলগুলিকে ‘রেড জোন’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সেই তালিকা মেনেই ধারাবাহিকভাবে ভাঙার কাজ চলবে।

রবিবার সকালে বেলেঘাটায় তৃণমূল আমলের প্রভাবশালী নেতা রাজু নস্করের বিশাল বহুতলের একাংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করে এই বহুতলটি তৈরি হয়েছিল। একইসঙ্গে কসবায় ইডির হাতে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সোনা পাপ্পুর বেআইনি নির্মাণেও বুলডোজার চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ছত্রছায়াতেই এই নির্মাণগুলি গড়ে উঠেছিল।

তিলজলা থেকে শুরু করে মাঠপুকুর বা নিউ মার্কেট—শহরের সব প্রান্তেই একই ছবি। পুকুর ভরাট করে তৈরি হওয়া পার্টি অফিস বা সরকারি রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা কার্যালয়, কিছুই রেহাই পাচ্ছে না। প্রশাসনের বক্তব্য, এখানে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। বিল্ডিং আইন ভাঙলে কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বুলডোজারের এই গর্জন এখন স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শহরে বেআইনি নির্মাণের দিন শেষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy