‘রাজনীতিতে আসা ভুল ছিল’,-মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোটে তীব্র ক্ষোভ উগরে গেলেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা আশিস

রবিবার সকালে বীরভূমের রামপুরহাটে নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা পাঁচবারের তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ির লাগোয়া দলীয় কার্যালয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রামপুরহাট থানার পুলিশ। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেননি।

তবে ওই নোটে বেশ কিছু বিস্ফোরক ও আবেগঘন কথা লিখেছেন প্রবীণ এই নেতা। তিনি উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (TRDA)-তে তাঁকে কোনও ফাইল দেওয়া হয়নি। তিনি কোনও টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন না এবং চেকে স্বাক্ষর করার ক্ষমতাও তাঁর ছিল না। তিনি কোনও পরিকল্পনা অনুমোদন বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) দেননি এবং এ বিষয়ে কেউ কখনও তাঁর সঙ্গে আলোচনাও করেনি বলে নোটে উল্লেখ করেছেন।

সুইসাইড নোটে আশিসবাবু জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, তিনি জীবনে কখনও কোনও দুর্নীতিতে জড়িত হননি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি কারও কাছ থেকে এক পয়সাও অবৈধ সুবিধা নেননি বলে জানিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া এবং রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন যে, এই সময়ে কিছু মানুষ তাঁকে বদনাম করার চেষ্টা করেছিল। এমনকি রাজনীতিতে প্রবেশ করাকে তাঁর জীবনের একটি ‘ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক জীবনে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০০১, ২০০৬, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার জয়ী হয়ে বিধায়ক হন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তিনি কৃষিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পরাজয়ের মুখোমুখি হন। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।

দ্রষ্টব্য: আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক অবসাদ বা আত্মহত্যার কথা ভেবে থাকেন, তবে এটি একটি অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি। অবিলম্বে ভারত সরকারের জীবনসাথী হেল্পলাইন 18002333330 নম্বরে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও টেলিমানস হেল্পলাইন 1800914416 নম্বরে ফোন করতে পারেন। আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে বিশেষজ্ঞরা আপনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।