রতুয়ায় কংগ্রেসের বড় জয়! আইনি লড়াই জিতে মনোনয়ন পেশ মোত্তাকিন আলমের, কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মোত্তাকিন আলমের ভাগ্য ঝুলে ছিল সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের ওপর। ভোটার তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে নাম বাদ যাওয়ার পর, অবশেষে আইনি লড়াই জিতে সোমবার চাঁচল মহকুমাশাসকের দফতরে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন তিনি। এই ঘটনায় যেমন স্বস্তি ফিরেছে মালদা জেলা কংগ্রেস শিবিরে, তেমনই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন।

কী ঘটেছিল মোত্তাকিনের সঙ্গে? গত ৪ এপ্রিল দেখা যায়, ভোটার তালিকা থেকে মোত্তাকিন আলমের নাম ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর নাম বিচারবিভাগের বিবেচনাধীন এবং ১৫ দিনের মধ্যে তাঁকে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। ভোটযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রার্থীর নাম ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। বিকল্প হিসেবে মালতীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক আলবেরুণি জুলকারনাইনকে প্রস্তুত থাকতে বলে দল।

সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ ঘটনা জানাজানি হতেই তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেসের লিগ্যাল সেল। শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশের পর ট্রাইব্যুনাল দ্রুত শুনানি করে জানায়, মোত্তাকিন আলমের নাম বাদ দেওয়া যাবে না এবং তিনি একজন বৈধ ভোটার। আদালতের এই জয়ের পরই জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরীকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করেন মোত্তাকিন।

তীব্র আক্রমণ কমিশনের বিরুদ্ধে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মোত্তাকিন আলম। তিনি বলেন:

  • “আমরা কয়েক পুরুষের বাসিন্দা, আমি আগে বিধায়কও হয়েছি। তারপরেও আমার নাম বাদ দেওয়া হলো কেন?”

  • তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘুদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে।

  • তাঁর প্রশ্ন, “আমি প্রার্থী বলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সুবিধে পেলাম, কিন্তু সাধারণ মানুষের কী হবে যাদের নাম এভাবে কাটা যাচ্ছে?”

ইশা খান চৌধুরীর প্রশ্ন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরী জানান, এর আগে ফরাক্কার প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে প্রমাণিত হচ্ছে যে ভোটার তালিকায় কোথাও বড় ধরনের ভুল বা কারচুপি হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

২০১৫ সালের মানিকচক কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক মোত্তাকিন আলম এবার রতুয়া থেকে লড়ছেন। এই আইনি লড়াইয়ের পর মালদার ভোটের ময়দানে কংগ্রেস কর্মীরা নতুন করে অক্সিজেন পেলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy