যোগী মন্ত্রিসভায় জায়গা মেলেনি, তবুও বাজিমাত! বিজেপি-র নতুন মুখ পূজা পাল, চাপে এসপি-বিএসপি

উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে বড়সড় রদবদল করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ৪৬ জন নতুন পদাধিকারীর তালিকা প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। এই নতুন রাজ্য কমিটিতে সবচেয়ে বড় চমক অবশ্যই বিদ্রোহী সমাজবাদী পার্টি (এসপি) বিধায়ক পূজা পাল। তাঁকে সরাসরি বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করে দল যে অ-যাদব অনগ্রসর শ্রেণী বা ওবিসি ভোটব্যাঙ্কে বড় ফাটল ধরাতে চাইছে, তা স্পষ্ট।

রাজনীতির অন্দরের খবর, যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় পূজা পালকে মন্ত্রী করার প্রবল সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে বিজেপি তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে বুঝিয়ে দিল যে, রাজ্যের বর্তমান রাজনীতিতে পাল-গাদারিয়া-বাঘেল সম্প্রদায় কতটা নির্ণায়ক। ২০০১ সালের হুকুম সিং কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪.৪৩ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ প্রায় ১.১ কোটি মানুষ। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিশেষ করে বুন্দেলখণ্ড থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চল—প্রায় দুই ডজনেরও বেশি আসনে এই পাল সম্প্রদায়ের ভোট জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

কৌশলী বিজেপি এখন ছোট জাতের ভোটারদের ওপর বাজি ধরছে। সমাজবাদী পার্টি শ্যাম লাল পালকে এবং বিএসপি বিশ্বনাথ পালকে রাজ্য সভাপতি করে এই সম্প্রদায়কে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছিল। এবার বিজেপি পূজা পালকে দলে নিয়ে পাল্টা চাল চালল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পূজা পালের বিজেপিতে যোগদান এসপি-র জন্য বড় ধাক্কা, কারণ আতিক আহমেদ কাণ্ডের পর তিনি প্রকাশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করেছিলেন। পরে সমাজবাদী পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিজেপি যেভাবে তাঁকে বরণ করে নিল, তা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অংশ।

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি এখন আর কেবল যাদব বা বড় বর্ণদের ওপর নির্ভরশীল নয়। ছোট ও মাঝারি অনগ্রসর জাতিগুলো, যেমন—কুর্মি, লোধ, মৌর্য, রাজভর বা পাল-গাদারিয়াদের সমন্বিত ভোটই এখন ক্ষমতার চাবিকাঠি। এক বা দুই শতাংশ ভোটের ব্যবধানে যেখানে নির্বাচনী ফলাফল বদলে যায়, সেখানে অ-যাদব ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক দখলে নিতে প্রতিটি দলই মরিয়া। বিজেপির এই নতুন সাংগঠনিক দল ঘোষণা ও পূজা পালের অন্তর্ভুক্তি এটা প্রমাণ করে যে, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে জাতপাতের লড়াই এখন নতুন মোড় নিয়েছে। ক্ষুদ্র জাতগুলোর সম্মিলিত শক্তিই এখন আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের মসনদ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে। বিজেপি এই ছোট জাতের রাজনীতিকে হাতিয়ার করেই এসপি ও বিএসপি-র পুরনো দুর্গগুলোতে আঘাত হানতে চাইছে।