যোগী আদিত্যনাথের কড়া নির্দেশ, রাম মন্দির ট্রাস্টে প্রশাসনিক অস্থিরতা: পদত্যাগ চম্পত রায় ও অনিল মিশ্রের

অযোধ্যার রাম মন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকট। মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর, বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কঠোর হস্তক্ষেপে এই তদন্তের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাস্টের অন্দরমহলে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতির চাপে পড়ে ট্রাস্টের দুই হেভিওয়েট সদস্য চম্পত রায় এবং অনিল মিশ্র তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
রাম মন্দির ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। SIT-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, দান সংগ্রহ এবং মন্দিরের দৈনন্দিন অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একাধিক গাফিলতি ও অস্বচ্ছতা রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য SIT-কে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই তদন্তকারী দল অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। ট্রাস্টের বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা, ব্যাংকিং লেনদেনের হিসাব যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তদন্তের প্রথম ধাপেই বেশ কিছু গুরুতর গরমিল সামনে আসায় প্রশাসনিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। এই প্রেক্ষাপটেই চম্পত রায় এবং অনিল মিশ্রের ইস্তফাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও তাঁরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান তদন্তের নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
রাম মন্দির ট্রাস্টের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সাধারণ ভক্তদের মনেও কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে যোগী সরকার যেভাবে এই বিষয়টি হাতে নিয়েছে, তাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমানে SIT তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই রদবদলের ফলে ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন করে শৃঙ্খলা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কে বা কারা এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ।