শরীর ও মনের শান্তির জন্য নামাজের উপকারিতা নিয়ে মুখ খুলেই নেটপাড়ায় চরম রোষের মুখে পড়লেন ‘শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’ খ্যাত এমকিওর ফার্মাসিউটিক্যালসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নমিতা থাপার। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা লাগাতার ব্যক্তিগত আক্রমণ ও তাঁর মাকে নিয়ে অসভ্য ট্রোলিংয়ের প্রতিবাদে এবার সোচ্চার হলেন এই সফল নারী উদ্যোক্তা।
প্রতিবাদের ভাষাও ভিন্ন নমিতা থাপার কেবল একজন বিজনেস টাইকুন নন, তিনি একজন সচেতন স্বাস্থ্যকর্মীও। মাঝরাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে নিজের তৈরি এক ভিডিওতে তিনি ট্রোলদের একহাত নিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, “এতদিন চুপ ছিলাম, কিন্তু এখন আমার মা-কেও এই নোংরামির মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে। চুপ থাকা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া।”
কী নিয়ে এত বিতর্ক? মার্চের শেষে ঈদের এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গিয়ে নমিতা একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি নামাজকে একটি ‘সুন্দর আধ্যাত্মিক অভ্যাস’ বলে বর্ণনা করেন। স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তিনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন:
নামাজে বসার ভঙ্গিমা অনেকটা ‘বজ্রাসনের’ মতো, যা হজমে দারুণ সাহায্য করে।
নামাজের সিজদা বা ভঙ্গিমা মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে ধ্যানের মতো কাজ করে।
তীব্র প্রশ্নবাণ নমিতার নমিতা তাঁর ভিডিওতে পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “এর আগে আমি হিন্দু ধর্মের সূর্য নমস্কার, যোগাসন এবং বিভিন্ন আচারের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে ভিডিও বানিয়েছি। তখন তো কেউ আক্রমণ করেনি! তবে নামাজের বেলা কেন এই দ্বিচারিতা?” তাঁর মতে, ধর্ম বা ‘রিলিজিয়ন’ শব্দের শুরুটাই হয় ‘রেসপেক্ট’ বা সম্মান দিয়ে।
“চামড়া মোটা হয়ে গিয়েছে” ট্রোলের ভয় যে তিনি পান না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নমিতা। রসিকতা করে তিনি বলেন, “শার্ক ট্যাঙ্কে থাকার পর থেকে আমার গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গিয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রমণ আমায় ছোঁয় না। কিন্তু এই প্রতিবাদটা আমি করছি সমগ্র ভারতবাসীর জন্য। কোথাও অপমান বা অন্যায় দেখলে রুখে দাঁড়ান, চুপ থাকবেন না।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় নমিতার এই সাহসী অবস্থান যেমন প্রশংসা কুড়োচ্ছে, তেমনই ভারতের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





