শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শ্রীনগরের রাজপথ এক অন্যরকম উত্তজনায় সরগরম হয়ে উঠল। কাশ্মীর উপত্যকায় মদের দোকান চালু রাখার বিরুদ্ধে এবং মদ বিক্রি ও ক্রয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে নামল বিজেপি। হাতে পোস্টার, ব্যানার আর মুখে “কাশ্মীরে শরাববন্দি চাই” স্লোগান—বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের এই প্রতিবাদে উপত্যকার বাতাস কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যুবসমাজ ও সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই:
প্রতিবাদকারীদের মূল দাবি, কাশ্মীরের বিশেষ সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় পরিবেশকে কলুষিত করছে এই মদের দোকানগুলি। বিজেপি নেতা রাহুল শর্মা এই মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে বলেন, “কাশ্মীর শান্তি ও ঐতিহ্যের পুণ্যভূমি। এখানে মদের সহজলভ্যতা আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বেকারত্বের সঙ্গে যদি নেশা যোগ হয়, তবে পরিবারগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, কাশ্মীর ডিভিশনকে অবিলম্বে ‘ড্রাই জোন’ ঘোষণা করা হোক।”
মিশ্র প্রতিক্রিয়া উপত্যকায়:
বিজেপির এই আন্দোলনকে কাশ্মীরের অনেক অভিভাবক এবং মহিলা সংগঠন সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে। তাঁদের মতে, মদের কারণেই ঘরে ঘরে অশান্তি বাড়ছে এবং আর্থিক অনটন দেখা দিচ্ছে। তবে উদ্বেগের মেঘ ঘনিয়েছে মদের দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের মনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লাইসেন্সধারী বিক্রেতা জানান, “হঠাৎ ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার পরিবার রুটি-রুজি হারাবে। এছাড়া পর্যটনের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।” যদিও পর্যটন শিল্পের ক্ষতির যুক্তি মানতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের সাফ কথা, কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই পর্যটনের প্রাণ, মদ নয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী পরিকল্পনা:
২০১৯ সালের পর কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পর প্রশাসন কিছু নতুন মদের লাইসেন্স প্রদান করেছিল, যা নিয়ে স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ছিল। বিজেপি এখন সেই জনমতকে এককাট্টা করে আন্দোলনের পথে নেমেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রতিবাদ শুধু শ্রীনগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আগামী দিনে বারামুলা, কুলগাম এবং অনন্তনাগের মতো জেলাগুলিতেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। ইতিমধ্যেই লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দফতরে এই মর্মে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে একটি প্রতিনিধি দল।





