যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম! লেবাননের জনবহুল সেতু ধ্বংস করল ইসরায়েল, আছড়ে পড়ল মিসাইল

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার নতুন মোড়। দক্ষিণ লেবাননের যারারিয়াহ এলাকায় লিতানি নদীর উপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালাল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম লেবাননের কোনও প্রধান নাগরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালাল তেল আবিব।

কেন টার্গেট এই সেতু?

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি:

  • হিজবুল্লাহর যাতায়াতের পথ: সেতুটি উত্তর ও দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ব্যবহার করছিল।

  • রকেট লঞ্চারের উপস্থিতি: ইসরায়েলের দাবি, সেতুর আশপাশ থেকে হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালাচ্ছিল। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখনও কোনও অকাট্য প্রমাণ পেশ করেনি ইসরায়েলি সেনারা।

  • নাগরিক নিরাপত্তা: ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সেতুটি ধ্বংস করা জরুরি ছিল বলে তারা জানিয়েছে।

বৈরুতের আবাসিক ভবনে হামলা

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার আঁচ পৌঁছেছে খোদ রাজধানীর বুর্জ হাম্মোদ জেলাতেও। বৈরুতের উত্তরের এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়েছে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিপর্যস্ত জনজীবন

চলমান এই সংঘাতের জেরে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

  • উদ্বাস্তু লেবানন: পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাতের জেরে লেবাননের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি নাগরিক নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

  • যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: লিতানি নদীর উপর সেতুটি ধ্বংস হওয়ায় দক্ষিণ লেবাননের সঙ্গে বাকি দেশের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা ত্রাণ পৌঁছানোর কাজেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়ে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy