যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও ৭.৭ জিডিপি! নতুন ভারতের রেকর্ড গড়ার পেছনে কার হাত? মোদির মন্তব্যে শোরগোল

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্য কোনো উন্নয়নশীল দেশ এই মুহূর্তে এই অবিশ্বাস্য গতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে পারছে না, যা প্রমাণ করে এটিই আজকের ‘নতুন ভারত’-এর প্রকৃত শক্তি। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন যে, আসন্ন অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সুস্থ সমন্বয়ের হাত ধরে দেশের স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পন্ন হবে।
সোমবার সকালে সংসদ ভবনে প্রবেশের ঠিক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত এক মাসে আমাদের দেশ একের পর এক অসামান্য কীর্তি স্থাপন করেছে। এমন অনেক কাজ হয়েছে যা প্রতিটি দেশবাসীর বুক গর্বে ভরে দেবে। গত বছর ঠিক এই বাদল অধিবেশনের আগেই ভারতের এক নাগরিক আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিলেন। আর ঠিক পরশুই মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি দেশীয় স্টার্টআপ দুর্দান্ত কাজ করে দেখিয়েছে। সবথেকে বড় কথা, সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সকলের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। আমি আজ তাঁদের কথা বলছি, ৫৬ বছরের কোনো যুবকের কথা বলছি না! এই সমস্ত সাফল্য দেশকে এক নতুন আত্মবিশ্বাসে ভরিয়ে তুলেছে এবং এটি সারা বিশ্বের কাছেও এক বিশেষ বার্তা বটে। এখান থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে আমাদের দেশের যুবসমাজের ক্ষমতা ঠিক মহাকাশের মতোই অসীম ও অন্তহীন।”
সম্প্রতি তাঁর হাত ধরেই দেশের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের যুগান্তকারী পথচলা শুরু হয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গেও বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “সারাবিশ্বে এমন হাতে গোনা কয়েকটিমাত্র দেশ রয়েছে যেখানে হাইড্রোজেন শক্তি দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। এবার সেই অভিজাত দেশের তালিকায় গর্বের সঙ্গে নাম লেখাল আমাদের ভারত। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে ভারত কোনো বিদেশি অনুকরণ নয়, বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষকে এই অতিউন্নত ও পরিবেশবান্ধব ট্রেন উৎসর্গ করা হয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে আমাদের দেশের প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে দূরদর্শী উদ্যোগপতিরা দেশের অগ্রগতির জন্য কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন।”
দেশের সামগ্রিক প্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের দেশ এই মুহূর্তে অত্যন্ত দ্রুতগতির সঙ্গে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত স্পিড বা গতির সঙ্গে এ বার সংসদের স্পিরিট বা সংসদীয় চেতনাকে এক জায়গায় মেলাতে হবে। তবেই দেশের উন্নয়নের এই রথ আরও বেশি গতি পাবে। আমাদের দেশের সংসদে বহু প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সাংসদ উপস্থিত রয়েছেন। দেশের সংকট ও সম্ভাবনার মুহূর্তে তাঁদের বহুমুখী অভিজ্ঞতা এবং গভীর জ্ঞান আমাদের সকলেরই ভীষণভাবে দরকার, বিশেষ করে সংসদের কাজের জন্য এবং দেশের প্রতি খাঁটি রাষ্ট্রভক্তির জন্য তা অপরিহার্য। আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংসদরাই দেশের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসবেন। সংসদের অন্দরে সমস্ত দরকারি ও জনস্বার্থের বিষয়গুলি নিয়ে অত্যন্ত মনোজ্ঞ, সুস্থ এবং সমৃদ্ধ চর্চা হবে। দেশের উদীয়মান যুব সম্প্রদায় থেকে শুরু করে আপামর জনসাধারণ আজ সংসদের অন্দরে ঠিক এই ধরনের গঠনমূলক আলোচনাই দেখতে চায়।”