পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ আর ইরান-আমেরিকার চরম কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই ভারতের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে ফিরছে তেলের জাহাজ ‘জগ বিক্রম’। গত সপ্তাহান্তে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক রুট হরমুজ প্রণালী সাফল্যের সঙ্গে পার করার পর, আগামীকালই (১৪ এপ্রিল) ভারতের বন্দরে নোঙর করতে চলেছে এই বিশালাকার জাহাজটি।
ভারতের জ্বালানি ঝুলি ভরবে ২০ হাজার টন এলপিজিতে: দেশজুড়ে যখন রান্নার গ্যাসের (LPG) সঙ্কটের আশঙ্কা দানা বাঁধছিল, ঠিক সেই সময় ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জন্য বড় জয় নিয়ে আসছে ‘জগ বিক্রম’। জাহাজটিতে রয়েছে ২০,৪০০ টন এলপিজি এবং ২৪ জন ভারতীয় নাবিক। আগে জানানো হয়েছিল জাহাজটি ১৫ এপ্রিল মুম্বই পৌঁছবে, তবে সোমবারের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবারই গুজরাট বন্দরে পণ্য খালাস করবে এটি। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী এটিই প্রথম বাণিজ্যিক তেলের জাহাজ।
ব্যর্থ বৈঠক ও যুদ্ধের দামামা: এদিকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ভেস্তে গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো চুক্তি ছাড়াই ওয়াশিংটনে ফিরে গিয়েছেন। বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে অস্বীকার করায় এবং আমেরিকা অবাধ নৌ-চলাচলের দাবিতে অনড় থাকায় কোনো সমাধানসূত্র বেরোয়নি।
ভবিষ্যৎ কী? জেডি ভ্যান্স সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এটি ইরানের জন্য খারাপ খবর। শান্তি বৈঠক সফল হয়নি কারণ ইরান আমাদের শর্ত মানেনি।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় ফের পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এই উত্তপ্ত আবহে ‘জগ বিক্রম’-এর নিরাপদে ভারতে প্রত্যাবর্তন ভারতের কূটনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলের এক বিরাট জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





