যুদ্ধের গ্রাসে কি ভারতও? সোশ্যাল মিডিয়ার হুজুগ উড়িয়ে এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদি শোনালেন ‘আসল কথা’!

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ কি ভারতের অর্থনীতিতেও আছড়ে পড়বে? গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা অজস্র জল্পনা ও আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার লোকসভায় দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হলেও ভারত সরকার যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সত্যিই চিন্তার। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মানুষের জীবনের ওপর পড়ছে।” তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ভারতের শক্তিবৃদ্ধি এবং সঠিক কূটনীতির কারণে জ্বালানি তেলের জোগান নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। মোদির কথায়, “জ্বালানি হল অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমরা চেষ্টা করছি যাতে পেট্রোল, ডিজেল বা রান্নার গ্যাসের জোগানে কোনও প্রভাব না পড়ে।” তিনি আরও জানান, গত ১১ বছরে ভারত তার শক্তি আমদানির উৎস ২৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১টি দেশে নিয়ে গিয়েছে, যা এই সংকটের সময় ভারতকে বাড়তি সুরক্ষা দিচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা নানা ‘ফেব্রিক্টেড’ তথ্য ও গুজব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি এই সংকটের সময় গুজব ছড়িয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করবে। আমাদের ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে এর মোকাবিলা করতে হবে।” যুদ্ধের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারত ইতিমধ্যেই কোভিড মহামারীর মতো কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছে। তাই এবারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং কয়েক কোটি প্রবাসী ভারতীয়ের সুরক্ষার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে প্রাধান্য পায়। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ‘ডায়ালগ ও ডিপ্লোম্যাসি’ বা আলোচনা ও কূটনীতিই যে যুদ্ধের একমাত্র সমাধান, সে কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধের সমাপ্তি কামনার পাশাপাশি ভারতকে আত্মনির্ভর ও সজাগ থাকার ডাক দেন।