যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু! তদন্তে লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগ, ‘খুন’ বলে অভিযোগ পরিবারের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের রহস্যজনক মৃত্যুতে নতুন মোড়। পরিবারের অভিযোগ, অনামিকাকে খুন করে পুকুরে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঘটনার নতুন দিক

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি পুকুরে অনামিকাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। অনামিকার বাবা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক খুনের অভিযোগ দায়ের করে বলেন, “আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সে ওই রাতে একা একা পুকুরের ধারে যেত না।”

এই অভিযোগের পর পুলিশ সেই প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর খোঁজ করছে, যিনি অনামিকাকে প্রথম পুকুরে পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, এই ব্যক্তিই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করতে পারেন।

পুলিশের তদন্তে কী উঠে এল?

পুলিশ ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা তিনজন ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের বয়ান নথিভুক্ত করা হলেও, প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর পরিচয় নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে সিসিটিভি ফুটেজ দিয়েছে, তবে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি কোনো ক্যামেরা না থাকায় কোনো স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ওপর নির্ভর করে তদন্ত চালাচ্ছে।

এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অনামিকার মৃত্যু নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত খুন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।