যাদবপুর কি ফের ‘লাল দুর্গ’ হবে? একান্ত সাক্ষাৎকারে জয়ের নীল নকশা ফাঁস করলেন দুঁদে আইনজীবী বিকাশ!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র যাদবপুর। আর এই ‘লাল দুর্গ’ পুনরুদ্ধারের গুরুদায়িত্ব এবার সিপিআইএম সঁপেছে বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের কাঁধে। প্রচারের ব্যস্ত ঠাসা কর্মসূচির মাঝেই ‘এশিয়া নেট নিউজ বাংলা’-র প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত খোলামেলা মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সাফ জানালেন, বামপন্থীরা মানুষের কাজ করতে আসে, পকেট ভরাতে নয়।
তৃণমূল ও বিজেপিকে কড়া আক্রমণ: সাক্ষাৎকারে বিকাশ বাবু সরাসরি তোপ দাগেন রাজ্যের শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দলের বিরুদ্ধে। তাঁর মতে, “তৃণমূল ১৫ বছরে বাংলাকে লুট করেছে, আর বিজেপি ধর্মের নামে বিভাজন করছে। মানুষ এই চোর আর জোচ্চোরদের চিনে গিয়েছে। বামপন্থীদের ইতিহাস স্বচ্ছতার ইতিহাস। আমরা মানুষের ট্যাক্সের টাকায় নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করি না।” নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন কেলেঙ্কারি—প্রচারের প্রতিটি মোড়েই তিনি দুর্নীতির ইস্যুকে অস্ত্র করছেন।
যাদবপুর পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ: একসময় বামেদের অভেদ্য কেল্লা হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বর্তমানে তৃণমূলের দখলে। তবে বিকাশের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে সমীকরণ বদলেছে। তিনি বলেন, “যাদবপুরের মানুষ শিক্ষিত, তাঁরা বোঝেন যে বিকল্প কেবল বামপন্থীরাই। আমরা এখানে কেবল ভোট চাইতে আসিনি, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছি।” এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট সভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি।
আইনজীবী বনাম রাজনীতিবিদ: আদালতের লড়াই আর রাজনীতির ময়দান—দুটোকেই সমানভাবে সামলাচ্ছেন বিকাশ। তিনি জানান, “আইনজীবীর কাজ যেমন মানুষের বিচার পাইয়ে দেওয়া, রাজনীতির লক্ষ্যও তেমন সামাজিক বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আমি সেই লক্ষ্যেই লড়ছি।”
যাদবপুরের এই মেগা লড়াইয়ে বিকাশের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বাম শিবিরকে কতটা অক্সিজেন দেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে বিকাশের আত্মবিশ্বাসী সুর বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর ফল চমকপ্রদ হতে পারে।