যাদবপুরে চরম অশান্তি! ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর

বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা তীব্র উত্তেজনা ও অশান্তি অবশেষে চরমে পৌঁছাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে। বাম ছাত্র সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অধ্যাপক মহলের তীব্র অভিযোগ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) আয়োজিত মিছিলে অংশ নেওয়া বহিরাগত ছাত্র কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে এই ঐতিহাসিক এমব্লেমটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের সময় ভারতের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু এই এমব্লেমটির অলংকরণ করেছিলেন। এই ঐতিহ্যে ঘেরা এমব্লেমটিতে একটি বিশেষ প্রদীপের তিনটি শিখা অঙ্কিত রয়েছে, যা পদ্মপাপড়ি দ্বারা বেষ্টিত।

এই নক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশিষ্ট অধ্যাপক মানস ঘোষ অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার মেলবন্ধন রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই ঐতিহ্যের ধারক এমব্লেমে আঘাত হানা মানে সরাসরি সেই গৌরবময় ইতিহাসকেই আঘাত করা।”

মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধারাবাহিক অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল গত বুধবার সন্ধ্যায়। সেদিন রাত নটা নাগাদ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ছাত্র সংসদ ‘ফেটসু’-র একটি সাধারণ সভায় আচমকাই প্রবেশ করেন এবিভিপির ছাত্র কর্মীরা। তাদের মূল প্রশ্ন ছিল, যেখানে দীর্ঘ বহুবছর ধরে নিয়মিত ছাত্র সংসদের কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেখানে এই ধরনের সংসদের জেনারেল বডির মিটিং বা সভা কীভাবে আয়োজিত হতে পারে? এই প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এই সংঘর্ষের জেরে নিখিল দাস নামে এবিভিপির এক পিএইচডি গবেষক ছাত্র গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে এই ঘটনার জেরে তাৎক্ষণিকভাবে যাদবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উপস্থিত হন।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ওইদিনই গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ভেতরে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে যে, এবিভিপি নেতৃত্ব সুকৌশলে বাইরে থেকে দুষ্কৃতী এনে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। এমনকি অরবিন্দ ভবনের সামনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির দলীয় পতাকাগুলি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। অন্যদিকে, গোলপার্ক এলাকা থেকেও পালটা একটি মিছিলের ডাক দেয় এবিভিপি। দুই পক্ষের মিছিল পুলিশের শক্তপোক্ত ব্যারিকেড ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে মুখোমুখি এসে পৌঁছালে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। দুই পক্ষের চরম ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার মাঝেই ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমটি।