যাত্রী বিনামূল্যে পান ডাল-ভাত, তরকারি! মহারাষ্ট্র থেকে অমৃতসরগামী এই ট্রেনে ২৯ বছর ধরে চলছে অবাক করা পরিষেবা

ভারতীয় রেলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় যখন বেশিরভাগ ট্রেনেই টিকিটের সঙ্গে খাবারের খরচ ধরে নেওয়া হয় বা যাত্রীদের কিনে খেতে হয়, সেখানে দেশের বুকে এমন একটি ট্রেন রয়েছে, যেখানে ৩৩ ঘণ্টার সফরকালে যাত্রীদের খাবার কিনে খেতে হয় না! প্রাতরাশ থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত, সবই তাঁরা পেয়ে যান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
সচখণ্ড এক্সপ্রেস: বিনামূল্যে খাবারের ট্রেন
দেশের এই একমাত্র বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার ট্রেনটি হলো সচখণ্ড এক্সপ্রেস। ট্রেনটি মহারাষ্ট্রের নান্দেড থেকে পাঞ্জাবের অমৃতসর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পথ যাতায়াত করে এবং ৩৯টি স্টেশনে দাঁড়ায়।
এই অভিনব উদ্যোগের কারণ হলো ট্রেনটির ধর্মীয় তাৎপর্য। নান্দেড-এ রয়েছে হুজুর সাহিব গুরুদ্বার এবং অমৃতসরে রয়েছে স্বর্ণমন্দির (শ্রী হরিমন্দির সাহিব)। দুটিই শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এই দুই পবিত্র তীর্থস্থানের কথা মাথায় রেখেই এই ট্রেনের সকল যাত্রীর জন্য লঙ্গর থেকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
খাবার পরিবেশন করেন স্বেচ্ছাসেবকরা
এই পরিষেবায় ট্রেনের শ্রেণিভেদে কোনো বিভেদ করা হয় না। সব শ্রেণির যাত্রীরাই সকালের প্রাতরাশ থেকে শুরু করে দুপুরের এবং রাতের খাবার বিনামূল্যে পান।
স্বেচ্ছাসেবকরা: ট্রেনের ৩৯টি স্টেশনের মধ্যে নয়া দিল্লি, ভোপাল, পার্ভনি, জলনা, ঔরঙ্গাবাদ ও মারাঠওয়াড়া— এই ৬টি স্টেশন থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা ট্রেনে ওঠেন এবং যাত্রীদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করেন।
শর্ত: খাবারের জন্য যাত্রীদের এক টাকাও দিতে হয় না। তবে যাত্রীদেরকে খাবার নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে নিজেদের থালাবাসন বহন করতে হয়।
খাবারের মেনুতে থাকে ভাত, ডাল, ছোলার তরকারি, খিচুড়ি, আলু ফুলকপির তরকারি এবং নানা সবজির তরকারি। ২৯ বছর ধরে প্রতিদিন এভাবেই সচখণ্ড এক্সপ্রেসের যাত্রীদের বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করে চলেছে লঙ্গর।