‘ওদের পাপের শাস্তি শুরু হলো!’ ৩ আইপিএস সাসপেন্ড হতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরজি করের নির্যাতিতার মা

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দীর্ঘ দিন পর, অবশেষে যেন এক ফালি স্বস্তির আলো দেখছে নির্যাতিতার পরিবার। শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল-সহ তিন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। আর সরকারের এই নজিরবিহীন মেগা অ্যাকশনের পর এবার মুখ খুললেন খোদ নির্যাতিতার মা। মেয়ের বিচারের লড়াইয়ে এই সিদ্ধান্তকে এক বড় জয় হিসেবেই দেখছেন তিনি।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন আরজি করের নির্যাতিতার মা। তিনি বলেন, “মেয়ের চলে যাওয়ার পর থেকে প্রতিটা দিন আমরা নরক যন্ত্রণা ভোগ করছি। সেদিন যারা প্রমাণ লোপাট করতে চেয়েছিল, আমাদের মুখ বন্ধ করতে টাকার প্যাকেট বাড়িয়ে দিয়েছিল, আজ তাদের এই শাস্তি দেখে মনে হচ্ছে বিচারের আশায় আরও একধাপ এগোলাম।”
তৎকালীন সরকারের আমলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিল নির্যাতিতার পরিবার। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগেই বিনীত গোয়েলের সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুরু করে ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নির্যাতিতার মা আরও জানান, এই আইপিএস অফিসারেরা আইনের রক্ষক হয়েও সেদিন অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে তিন পুলিশ কর্তার এই সাসপেনশনেই লড়াই শেষ হয়ে যাচ্ছে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ‘অভয়া’র মা। তাঁর সাফ কথা, “এটা কেবল শুরু। যারা আমার মেয়ের সঙ্গে ওই নৃশংস বর্বরতা চালিয়েছিল এবং যারা নেপথ্যে থেকে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল, যতক্ষণ না তারা প্রত্যেকে খাঁচায় বন্দি হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের এই লড়াই থামবে না।”
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন বিনীত গোয়েলদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিভাগীয় তদন্ত নিয়ে তীব্র চর্চা চলছে। কিন্তু এই সবের মাঝেও, মেয়ের সুবিচারের অপেক্ষায় থাকা এক মায়ের এই বুকফাটা লড়াই এবং প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের প্রতি তাঁর এই আস্থা, সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে যে আরও একবার চাঙ্গা করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।