নিয়তি হয়তো একেই বলে! চলন্ত ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার পর যে মানুষকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল সবাই, সেই যুবকই আজ সুস্থ শরীরে নিজের বাড়িতে পা রাখলেন। এক মর্মান্তিক অপরাধ এবং তারপর অবিশ্বাস্য এক জীবনযুদ্ধের সাক্ষী থাকল দেশ। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাফল্য নয়, এটি একটি আক্ষরিক ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা।
মর্মান্তিক সেই রাত ঘটনাটি ঘটেছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। চলন্ত ট্রেনে কিছু দুষ্কৃতীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ওই যুবক। অভিযোগ, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই দুষ্কৃতীরা তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে রেললাইনের ধারের অন্ধকার ঝোপে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানে পড়ে থাকার পর রেল পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। মাথার আঘাত এবং একাধিক হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁর বাঁচার আশা ছিল ক্ষীণ। কোমার অন্ধকার জগত থেকে তিনি আর কোনোদিন ফিরবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন খোদ চিকিৎসকরাও।
অদম্য লড়াই ও ঘর ফেরা হাসপাতালের আইসিইউ-তে টানা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার আর মানুষের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ধীরে ধীরে সাড় ফিরতে শুরু করে তাঁর শরীরে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আজ তিনি নিজের পায়ে হেঁটে বাড়িতে ফিরলেন। তাঁর পরিবার বলছে, “এটা আমাদের কাছে দ্বিতীয় জন্ম। আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু ভগবান ওকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত হলেও ট্রমা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।