“যখন খুশি বাংলায় চলে আসুন, বাকস্বাধীনতা সুরক্ষিত!” ১৯ বছর পর তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে মেগা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর বা প্রায় দুই দশক পর অবশেষে কলকাতায় ফিরেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরীন। গত শুক্রবার তিনি কলকাতায় পা রাখার পর শনিবার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি উগ্রবাদ-বিরোধী সাহিত্য অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে আসেন। এই অনুষ্ঠানে লেখিকার হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে লেখিকাকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন তিনি।

“আপনি যখন খুশি বাংলায় আসতে পারেন”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। তিনি বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি যখনই আসবেন, আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার দায়িত্ব। আপনি যখন খুশি, যতবার খুশি এখানে আসতে পারেন।” উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর কিছু অংশ নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তসলিমা নাসরীনকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। পরবর্তীতে বিগত ১৪ বছরের তৃণমূল জমানাতেও তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের অন্ধকার যুগ শেষ হয়ে গেছে।

“সংবিধানের প্রতিটি স্তম্ভ সুরক্ষিত”
বর্তমান প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, নতুন সরকারের আমলে বাংলার প্রতিটি নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। তিনি যোগ করেন, “এই পশ্চিমবঙ্গ এখন শৃঙ্খল ও ভয়মুক্ত। এখানে আসার অধিকার সবার আছে এবং নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাও সবার রয়েছে।” তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে রাজ্যে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মঞ্চে তসলিমা নাসরীনকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়ে এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বর্তমান সরকার এক নতুন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বার্তার সূচনা করল।