মোরাদাবাদে কি অবশেষে কমল ত্রাসের রাজত্ব? খাঁচাবন্দি ১৪তম চিতাবাঘ, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে গ্রামবাসীরা!

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলায় গত কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ চিতাবাঘের আতঙ্ক এবার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন এবং বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মেগা রেস্কিউ অপারেশন’-এর সুবাদে ঠাকুরদ্বারা তহসিলের মলকপুর সেমলি গ্রাম থেকে আরও একটি চিতাবাঘকে সফলভাবে খাঁচাবন্দি করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ও ব্যাপক অভিযানে এখনও পর্যন্ত মোট ১৪টি চিতাবাঘকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ঠাকুরদ্বারা থেকেই ধরা পড়েছে ১৩টি এবং কাঁঠ তহসিল থেকে ১টি। ধারাবাহিক এই সাফল্যে এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা অবশেষে দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, যদিও স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসের মধ্যে চিতাবাঘের নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী হামলায় গোটা মোরাদাবাদ অঞ্চলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব বন্যপ্রাণীর হামলায় ইতিমধ্যেই চারজন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এক ডজনেরও বেশি গ্রামবাসী গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পাশাপাশি, ঠাকুরদ্বারা ও ছজলটে অজ্ঞাত পরিচয়ের গাড়ির ধাক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুটি চিতাবাঘের মৃত্যুও ঘটেছিল। পরিস্থিতির এই ভয়াবহতা অনুধাবন করে জেলা প্রশাসন ও বন দপ্তর দ্রুত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র ১৬টি খাঁচা পেতে তল্লাশি অভিযান শুরু হলেও বর্তমানে তৎপরতা বাড়িয়ে মোট ৪৬টি হাই-টেক খাঁচা সক্রিয় করা হয়েছে।
চিতাবাঘগুলির সঠিক অবস্থান ট্র্যাক করতে এবং ঘন জঙ্গল ও ইক্ষু ক্ষেতগুলিতে কড়া নজরদারি চালাতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের বিশেষ দলগুলি ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালাচ্ছে এবং পশুর গতিবিধি চিহ্নিত করতে বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা ট্র্যাপ। এই সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নিরলস টহলের ফলেই বন্যপ্রাণীগুলির কোনো রকম শারীরিক ক্ষতি না করে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মোরাদাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ড. রাজেন্দ্র পেন্সিয়া জানান যে, গত ৩ আগস্ট থেকে বন বিভাগ, রাজস্ব দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের যৌথ টিম ২৪ ঘণ্টা তৎপর থেকে এলাকায় লাগাতার টহলদারি চালিয়ে যাচ্ছে। ডিএম ড. রাজেন্দ্র পেন্সিয়া বলেন, “দ্রুত রেস্কিউ অপারেশন, আধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগ এবং জনসচেতনতার সঠিক সমন্বয়ের ফলে বর্তমানে চিতাবাঘের আক্রমণ এবং সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।” উদ্ধার হওয়া প্রতিটি চিতাবাঘকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে তাদের নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল অথবা সংরক্ষিত চিড়িয়াখানায় পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ গ্রামবাসীদের জীবন সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদেরও সুচারুভাবে রক্ষা করা।